ভয়াবহ চোট, পাঁচ মাস মাঠের বাইরে থাকা- সব প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে অবশেষে নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছেন আর্জেন্টিনার তরুণ উইঙ্গার জিউলিয়ানো সিমিওনে। তিনি স্প্যানিশ লা লিগার ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কোচ দিয়েগো সিমিওনের ছেলে।

২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা স্কোয়াডে ঠাঁই পাওয়ার পর সিমিওনে প্রকাশ করেন ২০২৩ সালের একটি পুরোনো বার্তা, যেখানে বন্ধুদের লিখেছিলেন, ‘আমি পরের বিশ্বকাপ খেলব।’

ওই সময় দেপোর্তিভো আলাভেসে ধারে খেলতে গিয়ে প্রাক-মৌসুমের এক ম্যাচে তার ফিবুলা হাড় ভেঙে যায় এবং গোড়ালির লিগামেন্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ পুনর্বাসনের কঠিন পথ পেরিয়ে অবশেষে সেই প্রতিজ্ঞাই বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

সিমিওনে বলেন, ‘আমি নিজের জন্য এই লক্ষ্যটি নির্ধারণ করেছিলাম। প্রতিটি অনুশীলন সেশনের সাথে আমি প্রতিদিন উন্নতি করেছি, আমার যা কিছু ছিল তার সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি এবং এই কঠোর পরিশ্রমের ফল মিলেছে।’

আর্জেন্টিনার হয়ে ১৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন সিমিওনে। ২৭শে জুন বিশ্বকাপ অভিষেক হয় তার এবং আর্জেন্টিনার হয়ে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে লিওনেল স্কালোনির শুরুর একাদশে (স্টার্টিং লাইনআপ) জায়গা করে নেন।

অ্যাটলেটিকোর এই গতিময় ডিফেন্ডারকে ৭১ মিনিট খেলার পর তুলে নেওয়া হয়। পরিবর্তে মাঠে নামেন ভ্যালেন্তিন বার্কো। জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-১ গোলের জয়ের পর সিমিওনে বলেন, ‘বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়াটা অবিশ্বাস্য একটি ব্যাপার। ছোটবেলা থেকেই আমি এটি নিয়ে স্বপ্ন দেখতাম। ২০২৩ সালে আমার যে চোট লেগেছিল, তারপর থেকে সবকিছু খুব দ্রুত ঘটে গেছে। আমার সময়টা খারাপ যাচ্ছিল; কিন্তু আমি অনেক প্রচেষ্টা দিয়ে এর মোকাবিলা করেছি। আর ত্যাগের মাধ্যমেই আমি এটি কাটিয়ে উঠতে পেরেছি।’

‘বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়াটা অবিশ্বাস্য। আমি সেদিন বলেছিলাম যে আমি বিশ্বকাপে খেলব; কিন্তু জানতাম না যে আমি এখানে পৌঁছাতে পারব কি না। তবে এতদূর আসতে পেরে এবং বিশ্বকাপে অভিষেক করতে পেরে এবং বিশ্বের সেরাদের (খেলোয়াড়) সাথে এখানে থাকতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত।’

বিশ্বকাপ শুরুর আগে সিমিওনে জানান, গুরুতর চোট পাওয়ার পর প্রথম যে চিন্তাটি মাথায় এসেছিল, সেটি ছিল বিশ্বকাপে খেলা। তখনও তিনি আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক কোনো দলেও খেলেননি। এরপর কঠোর পরিশ্রম করে তিনি অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করেন এবং বাবা দিয়েগো সিমিওনের অধীনেই নিজেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করেন। এখন তিনি লিওনেল মেসি, লওতারো মার্তিনেজ, জিওভানি লো সেলসোদের সঙ্গে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দলে নকআউট পর্বের লড়াইয়ের অপেক্ষায়।

টিটিটি/আইএইচএস/