এবারের বিশ্বকাপের নকআউটে এশিয়ান প্রতিনিধি জাপানের মুখোমুখি ব্রাজিল। ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এবারের বিশ্বকাপে শুরুটা হয়েছিল মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র দিয়ে। ওই ম্যাচেই বোঝা গিয়েছিল, ব্রাজিল এবার খুব একটা শক্তিশালী নয়। বেশ নড়বড়ে তাদের অবস্থান। যদিও হাইতি এবং সর্বশেষ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে চেনা ব্রাজিলকে কিছুটা হলেও দেখা গিয়েছিল। ওই দুই ম্যাচে ৬ গোল দিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে উঠে এসেছে ব্রাজিলিয়ানরা।

অন্যদিকে জাপান এবার বেশ শক্তিশালী। শুরুতেই তারা শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসকে ঠেকিয়ে দিয়েছে ২-২ গোলে। পরের ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলের বড়[ ব্যবধানে হারিয়েই নকআউটের পথে পা বাড়ায়। সর্বশেষ ইউরোপের আরেক শক্তিশালী দেশ সুইডেনের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে উঠে যায় নকআউটে।

রাউন্ড অব-৩২ এ এশিয়ার ব্রাজিলখ্যাত জাপান মুখোমুখি হচ্ছে আসল ব্রাজিলের; কিন্তু শক্তি ও সামর্থ্যের বিচারে এবার জাপানকে আসল ব্রাজিলের চেয়ে কেউ পিছিয়ে রাখছে না।

বিশেষ করে, গত অক্টোবরে টোকিও স্টেডিয়ামে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে জাপানের হারানোর কারণে এই প্রত্যাশাটা তৈরি হয়েছে বেশি। টোকিওর ওই ম্যাচে প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ব্রাজিল; কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে তাকুমি মিনামিনো, কেইতো নাকামুরা ও আয়াসে উয়েদার গোলে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়ে দেয় জাপানিজরা।

মজার বিষয় হলো, ব্রাজিলের বিপক্ষে জাপানের এটাই প্রথম কোনো জয়। ফিফা বিশ্বকাপ, কনফেডারেশন্স কাপ কিংবা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ- সব মিলিয়ে ব্রাজিল এবং জাপান মোট ১৪বার মুখোমুখি হয়েছে। স্পষ্টতই ব্রাজিলের আধিপত্য। ১১ ম্যাচে জয় পেয়েছে ব্রাজিল, ২টি ড্র হয়েছে এবং হেরেছে একটিতে। যেটা সর্বশেষ গত বছর অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

ফিফা বিশ্বকাপে এ নিয়ে দু’বার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল এবং জাপান। আগেরবার তারা মুখোমুখি হয়েছিল ২০০৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জাপানকে ৪-১ গোলে হারিয়েছিল সেলেসাওরা। ওই ম্যাচে রোনালদো করেছিলেন জোড়া গোল এবং এ ম্যাচেই জার্মানির জার্ড মুলারের ১৪ গোলের রেকর্ডকে স্পর্শ করেছিলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি।

জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় জয় ৫-১ গোলের ব্যবধানে, ১৯৯৫ সালে প্রীতি ম্যাচে। দলটির জালে চার ম্যাচে ৪ কিংবা তার বেশিবার বল জড়িয়েছে ব্রাজিল।

আইএইচএস/