গ্রুপ পর্বে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছিল জার্মানি। কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়া এবং আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে ১২ বছর পর বিশ্বকাপে নকআউট নিশ্চিত করে তারা। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে হেরে সমালোচনার মুখে পড়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসমানের মতে, এসব সমালোচনার জবাব দেওয়ার একটাই উপায় — জয়।

সোমবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত আড়াইটায় শেষ ৩২-এর ম্যাচে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে জার্মানি। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে নাগেলসমান বলেন, দলের একমাত্র লক্ষ্য জয়।

তিনি বলেন, ‘জার্মান জাতীয় দল মানেই প্রতিটি ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামা। আগামীকালের ম্যাচেও আমাদের লক্ষ্য একটাই, জয়।’

সমালোচনা কিংবা প্রত্যাশার চাপ নিয়ে খুব বেশি ভাবতে রাজি নন জার্মান কোচ। বরং খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসী রেখে সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নেই জোর দিচ্ছেন, ‘প্রত্যাশার চাপ সামলানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখা। খেলোয়াড়দের এমন একটি পরিকল্পনা দেওয়া, যাতে তারা মাঠে স্বচ্ছন্দ বোধ করে, নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে পারে এবং ম্যাচ জিততে পারে।’

ফুটবলে শেষ পর্যন্ত ফলটাই সবচেয়ে বড় বিষয় বলে মনে করেন নাগেলসমান, ‘ফুটবলে সবকিছুই জয়ের ওপর নির্ভর করে। জিতলে সবকিছু নিখুঁত মনে হয়, আর হারলেই সবাই বলে সবকিছু বাজে। তাই আগামীকাল আমাদের জিততেই হবে।’

শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে পরাজয়কে ‘কৌশলগত আত্মহত্যা’ বলেও উল্লেখ করেন জার্মান কোচ। তার মতে, শুরুতে এগিয়ে থেকেও নিজেদের ভুলের কারণেই ম্যাচটি হাতছাড়া হয়েছে।

তবে সেই হারের কোনো প্রভাব নকআউটে থাকবে না বলেই বিশ্বাস তার। দলের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট নাগেলসমান বলেন, ‘আগামীকাল আমাদের নিখুঁত একটি পারফরম্যান্স দরকার। অনুশীলনে ছেলেদের দেখে আমি খুবই খুশি। আমার বিশ্বাস, তারা নিজেদের সেরাটাই মাঠে উপহার দেবে।’

এদিকে, স্ট্রাইকার পজিশনে কাই হাভার্টজের ওপরই আস্থা রাখছেন নাগেলসমান। প্রথম দুই ম্যাচে বদলি নেমে তিন গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করা ডেনিজ উনদাভ দারুণ ছন্দে থাকলেও একাদশে হাভার্টজকেই এগিয়ে রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে খেলতে নামা হাভার্টজও আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, ‘বড় ম্যাচগুলো আমি সবসময় উপভোগ করি। কেন জানি না, কিন্তু এমন মঞ্চে আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। আশা করছি, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবো।’

এসকেডি/আইএন