জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উদযাপন হয়। এ উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
দিবসের শুরুতে দূতাবাসের সম্মেলন কক্ষে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।
আলোচনা সভায় জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় পুনর্বাসন এবং তাদের মুক্তিযোদ্ধাদের মতো দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণমূলক সুবিধার আওতায় আনা অত্যন্ত আবশ্যক।
রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে জাতীয় ঐক্য ও দেশ গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ্যমে যে গণআকাঙ্ক্ষার জন্ম হয়েছে, তা বাস্তবায়নে একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনই আমাদের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় বর্তমান সরকারের কল্যাণমুখী উদ্যোগগুলোকে সমর্থন জানানোর পাশাপাশি গঠনমূলক পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে আমাদের নাগরিক ভূমিকা পালন করতে হবে। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি সুশাসিত ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রবাসীদের অনন্য অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমান সরকার প্রবাসীদের কল্যাণে অত্যন্ত আন্তরিক। প্রবাসীদের নাগরিক সুবিধা আরও সহজতর করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি প্রবাসীদের প্রতি অফিসিয়াল ও বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান।
সভা শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত আরোগ্য এবং দেশ ও জাতির উত্তরোত্তর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। অনুষ্ঠানে জাপানে বসবাসরত সর্বস্তরের প্রবাসী বাংলাদেশি ও দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এমইউ/এমকেআর








