বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে সারাদেশে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ পালিত হয়েছে। ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের স্মরণে ৫ আগস্টকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস হিসেবে পালন করা হয়। বুধবার (৫ আগস্ট) দেশের বিভিন্ন স্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, র্যালি এবং প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হয়। সংবাদের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে বিস্তারিত।মুন্সিগঞ্জ : মুন্সিগঞ্জে সকাল ৯টায় শহরের লিচুতলা জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী ও পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জেলা কালেক্টরেট মাঠে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদদের আত্মত্যাগের মহিমা তুলে ধরেন।চাঁদপুর : চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজে ভোরেই কর্মসূচির সূচনা হয়। ভোর ৬টা ১ মিনিটে কলেজের পক্ষ থেকে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘পৃথিবীতে কোনো ফ্যাসিস্ট সরকারই চিরকাল ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি, ২০২৪ সালে বাংলাদেশেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি।’ আলোচনা সভা শেষে রচনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।ঠাকুরগাঁও : বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঠাকুরগাঁওয়ে জুলাই শহীদদের স্মরণে ঢল নামে মানুষের। সকালে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন শ্রদ্ধা নিবেদন করে। পরে জুলাই যোদ্ধাদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শহর প্রদক্ষিণ করে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।বেলা ১১টায় মানিকগঞ্জে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা ও অন্যান্য কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।মাদারীপুর : মাদারীপুরে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপিও পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে। সকালে কেন্দ্রীয় জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া, জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার, পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া বলেন, ‘শহিদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশে বৈষম্যের কোনো স্থান নেই। আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখব।’ফরিদপুর : ফরিদপুরের হাসিবুল হাসান লাভলু সড়কে জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে সর্বস্তরের মানুষ। ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, ‘ছাত্র-জনতার এই বিপ্লব দেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’মাগুরা : মাগুরায় শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান, জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ, পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘বিএনপি স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করব। শহিদ পরিবার ও আহতদের জন্য সব ধরনের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।’বাগেরহাট : বাগেরহাটে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিম ও জেলা বিএনপির সমন্বয়ক এম এ সালাম।জুলাই যোদ্ধা সাদ্দাম হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শহিদদের রক্তের বিনিময়ে আজ স্বৈরাচারমুক্ত দেশ পেয়েছি। অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং খুনি হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।’নওগাঁ : নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে শহিদদের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল, উপাচার্য ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলী, উপ-উপাচার্য ডা. মো. তারিকুল ইসলাম ও শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল বলেন, ‘নতুন প্রজন্মকেই একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হতে হবে।’বদলগাছী (নওগাঁ) : উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বদলগাছীতে জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি, এসি ল্যান্ড পলাশ হোসেন ও থানার ওসি রুহুল আমিন।সাংসদ ফজলে হুদা বাবুল হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলের কোনো দুর্নীতিবাজকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা ১৭ বছর রাজনীতি করেছি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য, আপস করার জন্য নয়।’নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : নাসিরনগরের ‘জুলাই শহিদ ইমরান চত্বরে’ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সাংসদ এম এ হান্নান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাছরিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন ও থানা ওসি শাহীনুল ইসলাম। সাংসদ এম এ হান্নান বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। শহিদদের অবদান আমরা কখনো ভুলব না।’সাতক্ষীরা : শ্যামনগরে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে র্যালি ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মনিরুজ্জামান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল আলম, উপজেলা আহ্বায়ক সুলাইমান কবির ও সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আশেক এলাহী মুন্না। ড. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। কোনো ধর্ম ব্যবসায়ী গোষ্ঠী যেন দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে না পারে সেদিকে সজাগ থাকতে হবে।’লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) : মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে কুমারভোগ ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে বিজয় র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা কাউসার তালুকদার, সেকেন্দার খান বাবু, মহিলা দল নেত্রী রোকেয়া বেগম ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘ভবিষ্যতে যেন আর কোনো স্বৈরশাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য ছাত্র-জনতাকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো জেগে থাকতে হবে।’লালমোহন (ভোলা) : লালমোহনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক, উপজেলা বিএনপি সভাপতি জাফর ইকবাল, জামায়াত আমির মাওলানা আব্দুল হক ও থানা ওসি অলিউর রহমান। ইউএনও সিফাত বিন সাদেক বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে আমরা একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর লালমোহন তথা বাংলাদেশ গড়তে চাই।'সুনামগঞ্জ (ধর্মপাশা) : সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার শুরুতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায়, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালিব খান এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, “৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর দিন। এই দিনটি ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে এই দিনেই স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটেছিল। এখন আমাদের দায়িত্ব একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা।”
ফেনী : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখতে ফেনীতে ‘৩৬ জুলাই বিজয়ের দৌড়’ শীর্ষক এক মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তরুণদের সংগঠন ‘বিজয় মঞ্চ’-এর উদ্যোগে আজ ভোর পৌনে ছয়টায় মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচ থেকে এই দৌড় শুরু হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শহীদ ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণের বাবা নেছার আহমেদ, ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুফতি আবদুল হান্নান, স্বেচ্ছাসেবক ওসমান গনি রাসেল এবং স্থানীয় ছাত্রনেতৃবৃন্দ। আয়োজক সংগঠনের প্রতিনিধি ওসমান গনি রাসেল বলেন, “জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের চেতনা ও তরুণদের মধ্যে ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে আমরা এই প্রতীকী দৌড়ের আয়োজন করেছি। বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন তরুণ সমাজ দেখেছিল, তা ধরে রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
গাইবান্ধা : গাইবান্ধায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে। সকালে পৌর পার্কের ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে’ পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ইনডোর স্টেডিয়ামে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, জেলা পরিষদের প্রশাসক ডা. মইনুল হাসান সাদিক এবং পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আবুল কাওছার বলেন, “সমাজের সব ধরনের অন্যায়-অবিচার রোধ করা গেলেই জুলাইয়ের বীর শহীদদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে যারা লুণ্ঠন ও জুলুম করেছে, তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গায় শহীদ হাসান চত্বরের ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘ডিসি সাহিত্য মঞ্চে’ এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান, কালেক্টরেট মসজিদের পেশ ইমাম কবীর আহমেদ এবং চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ। সভায় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, “জুলাই চেতনায় আমরা দেশ গড়ব, যেখানে সবার আগে থাকবে বাংলাদেশ। শহীদদের বীরত্বগাথা আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায়। একটি স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।”নরসিংদী: নরসিংদীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে আলোচনা সভা ও শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সকালে নরসিংদী পৌর পার্কে অবস্থিত ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে’ জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, বিএনপি ও নরসিংদী প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মানে এক সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন, সাবেক সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী, নরসিংদী-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল এবং জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান কেয়া। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি খায়রুল কবির খোকন বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এই অভ্যুত্থান আমাদের নতুন করে গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছে। শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ গঠন করাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”বরিশাল: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ‘স্মৃতিতে ৩৬ জুলাই এবং ভবিষ্যতের বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি চারণ করা হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা অডিটোরিয়ামে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধারা তাদের বীরত্বগাথা ও স্মৃতিচারণ করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ, প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছির ও জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও যোদ্ধা সাব্বির হোসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর প্রাপ্ত এই স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশকে টিকিয়ে রাখতে হলে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ঐক্য, ধৈর্য ও সহনশীলতা। জুলাই আন্দোলনে হামলাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তবে তা কোনো তাড়াহুড়ো বা প্রতিশোধের উদ্দেশ্যে নয়, বরং সুষ্ঠু তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিচার সম্পন্ন হবে, যাতে কেউ অবিচারের শিকার না হন।”
দিবসটি উপলক্ষে দেশের প্রতিটি জেলা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ দোয়া, প্রার্থনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদদের স্মরণ করা হয়।








