‘ট্রেনের ছাদের যাত্রীরা টয়লেট করে কিভাবে?’ এমন প্রশ্ন তুলে বাংলাদেশের রেলসেবা সম্পর্কে অকল্পনীয় কিছু তথ্য দিলেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুব কবীর মিলন। এ বিষয়ে ৩ জুলাই সকাল ১০টা ২২ মিনিটে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন তিনি। তার গুরুত্বপূর্ণ লেখাটি জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:
‘আপনারা কি জানেন, ট্রেনের ছাদের যাত্রীরা দীর্ঘ পথযাত্রায় ছাদে টয়লেট করে কোথায়, কিভাবে? জানেন না। আমরা জানি। আমরা বহুবার বলেছি, কোচের ছাদের ডিজাইন এমন উত্তল বা (curved বা arched roof) কার্ভড করুন, যাতে কেউ ছাদে বসতে না পারে। রেল কী বলেছিল জানেন? তাহলে ঈদে যাত্রীরা বাড়ি যাবে কিভাবে! এজন্যই তখন আমরা বলেছিলাম, ছাদে রেলিং দিয়ে বিছানা বালিশের ব্যবস্থা করা হোক। এই হচ্ছে রেল।
কোনো ইনোভেশন, কোনো কল্যাণ নেই। শুধু কেনাকাটা আর দুর্নীতি। মাল আর মাল। একটা মন্ত্রণালয়। বাইরে থেকে আমলারা যায়। রেল সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এত কম নলেজ রাখে, যা ভাবাই যায় না। আমাকে বহু কর্মকর্তা বলেছে, আমরা তো টেকনিক্যাল মানুষ নই। আমরা ওদের এসব টেকনিক্যাল বিষয় এবং দুর্নীতি ধরবো কিভাবে!
আরও পড়ুন
টাকার চেয়ে একজন মানুষের জীবন কি এত সস্তা?
নতুন লাইনের পাথর হাত দিয়ে সরিয়ে নিচের বেডে দেওয়া দুই নম্বরি পাথর আর দশ ইঞ্চি পরিমাণ পাথর ঢালার বদলে আট ইঞ্চি পাথর ঢালা ধরতে নাকি টেকনিক্যাল জ্ঞান লাগে। মনে করেন স্পেসিফিকেশনে ইঞ্জিনের মডেল দেওয়া এক্স, পাওয়ার ২০০। সাপ্লাই দেওয়া হয়েছে ওয়াই, পাওয়ার ১০০। এটা ধরতে নাকি বিশেষজ্ঞ হতে হবে আমলাদের।
হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রজেক্ট বাস্তবায়নের পর রেল মন্ত্রণালয় থেকে অডিট করে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে এমন কোনো রেকর্ড নেই। করলে, চাকরি থাকবে না। রেলে অতীত এবং বর্তমানের কোনো সচিব বা কর্মকর্তা বলতে পারবে না, নির্মাণাধীন রেল লাইনের পাথর স্কেল দিয়ে নিজে মেপে দেখেছে। দেখলে চাকরি থাকবে না।
নতুন কেনা কোরিয়ান লাল সবুজ এমজি কোচ ছাড়া সব এমজি কোচের ছাদে পানির ট্যাংকের ঢাকনা খোলা যায়। আমি কোচের কলের পানি কখনো ব্যবহার করি না। অনেকে অজুও করেন। গতকালও নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা আসার পথে ট্রেনের জানালা দিয়ে আসা পাথরের আঘাতে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফল আমদানি শুল্ক ও কর প্রত্যাহারের দাবি
দেখতে শুনতে খারাপ লাগলেও সব জানালায় স্টিলের নেট লাগিয়ে দিন। জাতি হিসেবে আমাদের পরিচয় বিদেশিরা ভালোই জানে। লজ্জার কিছু নেই। বর্তমান রেলের দুই মন্ত্রীই সৎ, কাজের এবং ভালো মানুষ। তাঁরা রেলের ৩/৪ জনকে বর্তমান পদ থেকে সরিয়ে না দিলে সরকার রেলে ব্যর্থ হবে নিশ্চিত।
এনএসআই, ডিজিএফআই দিয়ে তদন্ত করে দেখতে পারেন। সরকারি কর্মকর্তারা এই দেশের জনগণের ভাগ্য কিভাবে দলিতমথিত করেছে, তা নিয়ে অসংখ্য থিসিস লেখা যাবে।’
এসইউ








