প্রশাসনে তিন স্তরের পদোন্নতি নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। উপসচিব, যুগ্মসচিব ও অতিরিক্ত সচিব-এই তিন পদে দেওয়া হবে পদোন্নতি। তবে প্রথমে যুগ্মসচিব, এরপর উপসচিব এবং সবশেষ অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারের ৩১তম ব্যাচকে উপসচিব, ২৫তম ব্যাচকে যুগ্মসচিব এবং ২১তম ব্যাচকে অতিরিক্ত সচিব হিসাবে পদোন্নতির জন্য মূল ব্যাচ হিসাবে বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তবে অতীতের মতো ঢালাওভাবে বাছবিচার না করে যাকেতাকে পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হবে না। বরং যারা মেধাবী, দক্ষতা ও সততায় অনন্য, তারা সংখ্যায় কম কিংবা বেশি যাই হোক, তাদের পদোন্নতি বিবেচনা করবে সরকার।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী যুগান্তরকে বলেন, প্রথমে ২৫ ব্যাচকে যুগ্মসচিব হিসাবে পদোন্নতি দেওয়া হবে। এরপর ৩১ ব্যাচকে উপসচিব এবং সবশেষ ২১ ব্যাচকে অতিরিক্তি সচিব হিসাবে পদোন্নতি দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা কাজ করছি, পদোন্নতি দিতে একটু সময় লাগবে।

ব্যাচভিত্তিক খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রশাসন ক্যাডার ৩১ ব্যাচের সিনিয়র সহকারী সচিব ২৪৬ জন। এর মধ্যে ২৫ জন ইকনোমিক ক্যাডার থেকে একীভূত হয়েছেন। ২২১ জন ওই ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। এর মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন কর্মকর্তা বিগত আমলে সিনিয়র সচিব ও সচিবদের পিএস ছিলেন। তবে অনেকেই ইউএনও হিসাবে বিগত সরকারের সময় মাঠপর্যায়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন।

এদিকে প্রশাসন ক্যাডারের ২৫তম ব্যাচের সর্বমোট কর্মকর্তা ২০২ জন। এরমধ্যে ১৫ জন ইকোনমিক ক্যাডার থেকে একীভূত হয়েছেন। এছাড়া বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে ২৭ জন ডিসি ছিলেন। উপদেষ্টা, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) ছিলেন ৬ জন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পোস্টিংয়ে ছিলেন ৫ জন। বিদেশে পোস্টিংয়ে ছিলেন ৫ জন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং মাদকের মামলায় অভিযুক্ত ৩ জন। এছাড়া বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৪তম ব্যাচের পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তা ১৬০ জন। তাদের মধ্যে থেকেও কিছু কর্মকর্তা পদোন্নতি পাবেন।

অপরদিকে প্রশাসন ক্যাডারের ২১তম ব্যাচের কর্মকর্তা ১৭৫ জন। এর মধ্যে ১২ জন ইকোনমিক ক্যাডার থেকে একীভূত হয়ে এসেছেন। বিগত সরকারের সময় ডিসির দায়িত্ব পালন করেছেন ২১ জন। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের পিএস ছিলেন ১৫ জন। কর্মকর্তাদের অতীত পোস্টিং রেকর্ড পদোন্নতির সময় পুঙ্খানুপুঙ্খ দেখভাল করা হয়।

জানতে চাইলে সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া যুগান্তরকে বলেন, রাজনৈতিক আশ্রয়প্রাপ্তদের পদোন্নতি বন্ধ হবে না। তাদের ঠেকিয়ে রাখার মতো কোনো কাঠামো বিগত ৫৪ বছরে গড়ে উঠেনি। জনআকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী পদোন্নতি রাজনৈতিকভাবে বিতর্কমুক্ত হতে হবে। দক্ষ, যোগ্য ও রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ব্যক্তির পদোন্নতি যেন কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্বশীলরা কথায় বলবেন দলনিরপেক্ষ ব্যক্তিরা পদোন্নতি পাবেন, বাস্তবে দেখা যাবে আসল ঘটনা উলটো, তা কিন্তু হবে না। কথায় নয় বাস্তবে মিল দেখতে চায় মানুষ। তিনি আরও বলেন-সৎ, কর্মদক্ষ, যোগ্য ও মেধাবীরা যাতে কোনোভাবে বঞ্চিত না হয় সেই নিশ্চয়তা সরকারকেই দিতে হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার ৩১ ব্যাচের সঙ্গে আগের ব্যাচের ৭৭ জনসহ অতীতের বঞ্চিত কিছু কর্মকর্তা পদোন্নতি পাবেন। অনুরূপভাবে প্রশাসন ক্যাডারের ২৫ ব্যাচের সঙ্গে আগের ব্যাচের ১৬০ জনের মধ্যে থেকে কিছু কর্মকর্তা পদোন্নতি পাবেন। এছাড়া প্রশাসন ক্যাডার ২১ ব্যাচের সঙ্গে আগের ব্যাচের বঞ্চিত ১৭৯ জনের মধ্য থেকে কিছু কর্মকর্তা পদোন্নতি পাবেন। ইতোমধ্যে এসএসবির একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সবাইকে পদোন্নতি দিতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে।