দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের অন্যতম সেরা হিসেবেই এবারের বিশ্বকাপে এসেছিল উরুগুয়ে। কেপ ভার্দে ও সৌদি আরবের মত ছোট দলের বিপক্ষে আশা ছিল জিতে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করবে তারা কিন্তু দুই ড্রই তাদের কাল হয়ে দাঁড়ায়। স্পেনের সঙ্গে শেষ ম্যাচ হেরে বিদায় নেয় তারা। দলের এমন বিদায়ে হতাশা থেকে ক্ষোভ ঝারলেন কোচ মার্সেলো বিয়েলসা।
উরুগুয়ে জাতীয় দলের কোচ ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর ম্যাচ-পরবর্তী প্রথম সাক্ষাৎকারে যাওয়ার ঠিক আগে ক্ষোভে চিৎকার করে তিনি বলেন, 'এখান থেকে সরে যাও!'
স্পেনের কাছে হেরে ‘লা সেলেস্তে’ গ্রুপ এইচ-এ তিন ম্যাচে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে বিদায় নেয়। স্পেন ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। চমক দেখিয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে শেষ ৩২-এ উঠেছে কেপ ভার্দে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, উরুগুয়ে তৃতীয় হয়ে আবারও বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিল। কাতার ২০২২ বিশ্বকাপেও একই পরিণতি হয়েছিল তাদের।
ম্যাচ শেষে সম্প্রচারমাধ্যমকে দেওয়া প্রথম প্রতিক্রিয়ায় বিয়েলসা বলেন, 'উরুগুয়ের খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ সামর্থ্য আমি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছি।'
ম্যাচে তার কয়েকটি সিদ্ধান্তও আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে গোলরক্ষককে ভুলের পর মাঠ থেকে তুলে নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এ বিষয়ে প্রথমে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, 'কিছু না।' তবে পরে মিশ্র জোনে তিনি জানান, 'সিদ্ধান্তটা আমি নিইনি। মুসলেরা নিজেই মাঠ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।'
আরেকটি আলোচিত পরিবর্তন ছিল অধিনায়ক ভালভার্দেকে তুলে ফেদেরিকো ভিনাসকে নামানো। দুইজন সেন্টার ফরোয়ার্ড নিয়ে সমতাসূচক বা জয়সূচক গোলের চেষ্টা সম্পর্কে বিয়েলসা বলেন, 'আমি চেয়েছিলাম দল আক্রমণে আরও বেশি মনোযোগী হোক।'
পরে সংবাদ সম্মেলনে নিজের তিন বছরের দায়িত্বকাল নিয়ে কঠোর আত্মসমালোচনা করেন তিনি, 'উরুগুয়ের ফুটবলের জন্য আমি কিছুই রেখে যেতে পারিনি। একটি দেশের ফুটবলে একজন কোচের অবদান তখনই টিকে থাকে, যখন ফলাফল আসে। ফল না এলে সেই অবদানও টেকে না।'
তিনি আরও বলেন, 'ম্যাচগুলোর প্রাপ্য বিচার করলে আমাদের সাত পয়েন্ট পাওয়া উচিত ছিল। তবে আপনারা সাংবাদিকরা এবং সমর্থকেরা যে হতাশার দায় আমার ওপর দিচ্ছেন, সেটি একেবারেই যৌক্তিক। কারণ দায়িত্ব আমারই, আর সেটি আমাকে মেনে নিতেই হবে।'
আরআর/এমএমআর/এএসএম








