গ্রিক বংশোদ্ভূত আনাস্তাসিয়া ১৫ বছর বয়সে দাসী হিসেবে ইস্তাম্বুলের তোপকাপি প্রাসাদে আসেন। রূপ ও বুদ্ধিমত্তায় মুগ্ধ হয়ে সুলতান প্রথম আহমেদ তাঁকে গ্রহণ করেন এবং নতুন নাম দেন কোসেম। রাজপ্রাসাদে নিজের অবস্থান শক্ত করে ১৬০৫ থেকে ১৬১৭ সাল পর্যন্ত তিনি হাসেকি সুলতান বা সুলতানের প্রিয় স্ত্রী হিসেবে হারেমের প্রধান নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন।

১৬১৭ সালে সুলতান আহমেদের মৃত্যুর পর কোসেম রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে প্রাসাদ ছাড়তে বাধ্য হন। তবে তিনি দমে যাননি। নিজের এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তিনি ক্ষমতার রাজনীতিতে ফেরেন। ১৬২৩ সালে নিজের অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে চতুর্থ মুরাদকে উসমানীয় সাম্রাজ্যের সিংহাসনে বসাতে সক্ষম হন কোসেম। ছেলে ছোট হওয়ায় তিনি নায়েব-ই-সালতানাত বা প্রধান রাজপ্রতিনিধি পদবি গ্রহণ করেন। ১৬২৩ থেকে ১৬৩২ সাল পর্যন্ত সাম্রাজ্যের মূল অভিভাবক হিসেবে কার্যত একক শক্তিতে শাসনকার্য পরিচালনা করেন। এভাবে একজন সাধারণ দাসী থেকে তিনি উসমানীয় ইতিহাসের অন্যতম পরাক্রমশালী নারী শাসকে পরিণত হন।

কোসেম সুলতান মিসরের বন্যাদুর্গত ব্যক্তিদের সাহায্য করেন, মক্কার গরিব ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দেন। তিনি গরিব পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে সাহায্য করতেন অকাতরে। ১৬৪০ সালে উস্কুদারে একটি মসজিদ ও স্কুল নির্মাণ করেন। ১৬৫১ সালের ২ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান। ষোলো শতকের প্রথম ভাগে হুররাম সুলতানের সময় নারী ক্ষমতায়নের যে সূচনা ঘটেছিল, কোসেম সুলতানের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার ইতি ঘটে।