নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে আজ মঙ্গলবার। আগামীকাল বুধবার থেকে নতুন অর্থবছর শুরু হচ্ছে। এবারের মুদ্রানীতিতে নীতি সুদের (বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য নির্ধারিত সুদ) হার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। তবে উৎপাদন খাতে কম সুদে টাকার জোগান বাড়ানো হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের জন্য এবারও মুদ্রানীতি কাঠামো সংকোচনমুখী রাখা হবে। অর্থাৎ অনুৎপাদনশীল খাতে টাকার প্রবাহে লাগাম টানা ও উৎপাদন খাতে বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখারও কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
এসব লক্ষ্যকে সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, প্রতিবেশী দেশগুলোসহ প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় নীতি সুদের হার বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি। অন্যান্য দেশ নীতি সুদের হার কমালেও বাংলাদেশ এখনো কমায়নি। কারণ দেশে এখনো মূল্যস্ফীতির হার বেশি। গত মে মাসে এ হার ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে উঠেছে। এ হার নিয়ন্ত্রণ করতে চার অর্থবছর ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে। তারপরও মূল্যস্ফীতি কমেনি। উলটো বেড়েছে।
মূল্যস্ফীতির হার কমাতে এবারের মুদ্রানীতিতে নীতি সুদের হার কমানো হচ্ছে না। তবে মূল্যস্ফীতির হার কমে গেলে আগামী ডিসেম্বরের আগে তা কমানো হতে পারে। এবারের মুদ্রানীতিতে উৎপাদন খাতে টাকার জোগান বাড়ানোর পদক্ষেপ থাকছে। এর অংশ হিসাবে ইতোমধ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। মুদ্রানীতির মাধ্যমে এসব পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার পাশাপাশি আরও নতুন বেশ কিছু পদক্ষেপ থাকছে। এর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ছাপানো টাকার জোগান কমানো এবং আগে বাজারে ছাড়া ছাপানো টাকা পর্যায়ক্রমে তুলে আনা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব অর্থে গঠিত তহবিলের ব্যবহার বাড়ানোর পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া মুদ্রানীতিতে ডলারের বিপরীতে টাকার মান স্থিতিশীল রাখতে বৈদেশিক খাতে সম্পদের জোগান বাড়ানোর পাশাপাশি আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখার কৌশল নেওয়া হবে।








