যশোরে ছেলের বটির কোপে শরীর থেকে মায়ের মাথা বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে পলাতক। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ারা বেগম (৫৮) দুর্গাপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আলতাফ হোসেন মাস্টারের স্ত্রী। অভিযুক্ত ছেলে মো. মামুনুর রশিদ ওরফে মামুন (৪০) লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মামুনের আগে দুটি বিয়ে হয়েছিল। উভয় স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের কারণে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। মামুন তাঁর মাকে স্ত্রীদের সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য দায়ী মনে করতেন। এ নিয়ে এর আগেও মায়ের সঙ্গে তাঁর বিরোধ ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছিল। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, পারিবারিক অশান্তির কারণে মামুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে তাঁকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি দুই থেকে তিন মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, মামুন দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে থাকতেন না। প্রায় পাঁচ বছর পর বৃহস্পতিবার তিনি বাড়িতে আসেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়িতে এসে মায়ের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে মামুন উত্তেজিত হয়ে ধারালো বটি দিয়ে মায়ের গলায় কয়েকটি কোপ দিলে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই আনোয়ারা বেগমের মৃত্যু হয়। পরে মামুন পালিয়ে যান। খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মামুনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুম খান। ওসি জানান, পারিবারিক তুচ্ছ ঘটনায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে ছেলের হাতে মা হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।








