নিকট আত্মীয়কে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের মামলায় ‘এস্তে’ মেডিকেল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়সালের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (৫ জুলাই) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত ৫ লাখ টাকা মুচলেকায় আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন। কারাগারে যাওয়ার ৫ দিনের মাথায় জামিন পেলেন তিনি।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার জানান, আদালত তিনটি শর্তে ফয়সালকে জামিন দিয়েছেন। শর্তগুলো হলো—তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে, জামিনের অপব্যবহার করা যাবে না এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশে যাওয়া যাবে না।

গত ১ জুলাই উচ্চ আদালতের দেওয়া ৮ সপ্তাহের জামিনের মেয়াদ শেষ হলে ফয়সাল ঢাকার আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ওইদিন তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

রোববার পুনরায় জামিন আবেদনের শুনানিতে আসামিপক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খানসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে বাদীপক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খোরশেদ মিয়া আলমসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশের দিন আদালত কক্ষের সামনে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোলের ঘটনাও ঘটে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বছরের জুন মাসে অভিযুক্ত ফয়সল তার নিকট আত্মীয় এক কিশোরীকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, প্রথমে তাকে ধূমপানে প্ররোচিত করার চেষ্টা করা হয়। পরে গুলশানে একটি অফিসে ডেকে নেওয়ার পরও একই চেষ্টা করা হয়। এরপর একদিন গাড়ি চালানো শেখানোর কথা বলে তাকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় ভুক্তভোগী প্রথমদিকে বিষয়টি গোপন রাখেন। পরে চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল বড় বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে অভিযুক্তকে দেখে তিনি চিৎকার করলে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটি জানতে পারেন। এরপর গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগীর বাবা গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, মামলার অভিযোগগুলো তদন্তাধীন। আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আইনগতভাবে প্রমাণিত নয়।

এমডিএএ/জেএইচ