লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর মতো তিনিও নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছিলেন। কিন্তু তাকে নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়নি। কারণ, তিনি তারকা নন। ক্লাব ফুটবল খেলেন না। বিশ্বকাপের মঞ্চেই চার বছর অন্তর দেখা যেত তাকে। সেই গুইলেরমো ওচোয়া অবসর নিলেন বিশ্বকাপের মাঝেই। যে মাঠে অভিষেক হয়েছিল, সেই মাঠেই নিলেন অবসর। মাত্র ১৯ মিনিট খেলে বিশ্বফুটবলকে বিদায় জানালেন মেক্সিকোর গোলরক্ষক।

বিশ্বকাপের দলে থাকলেও প্রথম দুই ম্যাচে বেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছিল ওচোয়াকে। তার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা বিশেষ ছিল না। সেই কারণেই কি অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি? তা অবশ্য জানা যায়নি। মেক্সিকোর দলে তিন গোলরক্ষক ছিলেন। যদি ওচোয়ার অবসরের ভাবনা থাকত, তাহলে একজন অতিরিক্ত গোলরক্ষক রাখত তারা। কারণ, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় তৃতীয় গোলরক্ষকেরও প্রয়োজন পড়ে। তাই অনেকেই মনে করছেন, সুযোগ না পেয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৪০ বছর বয়সি গোলরক্ষক।

চেকিয়ার বিরুদ্ধে ৭৭ মিনিটের মাথায় দেখা যায়, প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক রাউল রাঙ্গেলের পরিবর্তে নামছেন ওচোয়া। ৮০ হাজার দর্শকের আজতেকা স্টেডিয়াম চিৎকার করে স্বাগত জানায় ওচোয়াকে। নির্ধারিত ১৩ মিনিট ও সংযুক্তি সময় মিলিয়ে যে ১৯ মিনিট তিনি খেললেন, দেখে ভালো লাগল। গোল হজম করেননি ওচোয়া। শেষ ম্যাচে দুর্গ অক্ষত রাখলেন। চেকিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ শীর্ষে থেকে নকআউটে উঠল মেক্সিকো। খেলা শেষে পোস্টে চুমু খেয়ে গোল ছাড়লেন ওচোয়া। মেক্সিকোর ফুটবলার, সাপোর্ট স্টাফ, কোচ-প্রত্যেকে জড়িয়ে ধরলেন তাকে। সতীর্থরা ঘাড়ে তুলে নিলেন দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ফুটবলারকে। তিনিও হাততালি দিয়ে দর্শকদের অভিবাদন জানালেন। ওচোয়াকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন তিনি। মেক্সিকোর হয় নকআউটের দলে আর দেখা যাবে না ওচোয়াকে। অবসরের পর ওচোয়া জানালেন, স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তার। তিনি বলেন, ‘এই আজতেকাতেই প্রথম ম্যাচ খেলেছিলাম। এই আজতেকাতেই শেষ ম্যাচ খেললাম। এর থেকে ভালো আর কী হতে পারে। দুর্দান্ত একটা ক্যারিয়ার শেষ হলো। সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।’ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ফুটবলারদের অবসর খুবই সাধারণ ঘটনা। প্রতিবারই তা দেখা যায়। কিন্তু বিশ্বকাপের মাঝে অবসর নিতে খুব একটা দেখা যায় না। সেটাই করে দেখালেন ওচোয়া।