বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোতে ওঠার পর থেকেই ফিলিস্তিন ইস্যুতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে আসছেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে ঐতিহাসিক জয়ের পর ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে উদযাপন করে আলোচনায় আসা এই কোচ এবারও সংবাদ সম্মেলনে একই বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে হোসাম হাসান বলেন, ‌‘যে মানুষ ফিলিস্তিনিদের কষ্ট অনুভব করেনি, তার মধ্যে মানবতা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মাথার ওপর ছাদ পাই, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে থাকি। কিন্তু ফিলিস্তিনের মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা, সেই নিরাপত্তাটুকুও পায় না। তারা মুসলিম হোক বা খ্রিস্টান সবাই মানুষ। তাদের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা থাকা উচিত।’

মানবিক সংকটের প্রসঙ্গ টেনে মিসরের কোচ বলেন, ‘এখানে বৃষ্টি হলে আমরা আশ্রয় খুঁজি। কিন্তু সেখানে আশ্রয়ই নেই। মানবজাতি হিসেবে আমাদের লজ্জিত হওয়া উচিত। আমরা সবাই একই রকম মানুষ, অথচ অনেকেই অন্যদিকে তাকিয়ে থাকি।’

যুক্তরাষ্ট্র, ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ, দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কূটনৈতিক মিত্র। নিজের বক্তব্যের শেষদিকে হোসাম হাসান বলেন, ‘‘আমি ফুটবলকে একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চাই। আমরা চাই ফিলিস্তিনের মানুষ তাদের স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাক। আমরা ফিফার লোগো সম্মানের সঙ্গে ধারণ করি, কারণ আমরা মানুষের প্রতিও সম্মান দেখাতে চাই। জীবনের ক্ষেত্রেও ‘ফেয়ার প্লে প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।’’

হোসাম হাসানের এই মন্তব্য বিশ্বকাপ চলাকালেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তার বক্তব্য মূলত ফিলিস্তিনের চলমান মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে সহমর্মিতা প্রকাশ এবং ফুটবলের মাধ্যমে মানবতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান হিসেবেই উঠে এসেছে।

আরআর/এসকেডি/এসএনআর