ফুটবল মাঝে মাঝে এতটা নিষ্ঠুর নাটকীয়তা উপহার দেয় যে তা মেনে নেওয়া কঠিন। সিয়াটলের মাঠে আজ মিসরের বিপক্ষে ইরানের ম্যাচটি ছিল ঠিক তেমনই এক অসমাপ্ত মহাকাব্য, যেখানে শেষ লাইনটি লিখে ফেলার পরও ভাগ্য এসে তা নির্মমভাবে কেটে দিল। ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় স্থানে থাকা ইরানের নকআউটের টিকিট এখন ঝুলে আছে অন্যদের ওপর। 

শেষ ৩২-এ যেতে হলে তাদের সামনে এখন তিনটি কঠিন সমীকরণ কাজ করছে। ঘানাকে হারাতে হবে ক্রোয়েশিয়ার, কঙ্গোর বিপক্ষে উজবেকিস্তানকে থাকতে হবে অপরাজিত এবং অস্ট্রিয়া বনাম আলজেরিয়া ম্যাচটিতে যেকোনো এক দলকে জয়ী হতে হবে,  বিশেষ করে অস্ট্রিয়া জিতলে ইরানের জন্য সুবিধা। এখান থেকে কোন সমীকরণ না মিললে, ইরানকে ফিরতে হবে গ্রুপ পর্ব থেকেই।

আর যদি হিসেব মিলে যায়, তাহলে অপেক্ষা করছে বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যরকম এক রোমাঞ্চ। আগামী ৭ জুলাই স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইরান। মাঠের বাইরে যে দুই দেশ এখন রয়েছে মুখোমুখি অবস্থানে, মাঠেও দেখা যাবে তাদের ঐতিহাসিক লড়াই।

অথচ ম্যাচের শেষ মুহূর্তে অন্য এক রূপকথা জন্ম নিচ্ছিল। যোগ করা সময়ের ৯৩ মিনিটে যখন বক্সের ভেতর পিনবলের মতো ঘুরতে থাকা বলটি শোজায়ে খলিলজাদেহ জালে জড়ালেন, তখন পুরো স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়েছিল। ইরানের সাইডবেঞ্চের সবাই মাঠে ছুটে এসেছিলেন। তারা বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন যে কাঙ্ক্ষিত জয়টি ধরা দিয়েছে। কিন্তু তখনই দৃশ্যপটে হাজির সেই নির্মম প্রযুক্তি। মিলিমিটারের সূক্ষ্ম ব্যবধানে খলিলজাদেহর গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল করে দেয় ভিএআর। সেকেন্ডের ব্যবধানে আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন ভেঙে ইরান আছড়ে পড়ে বাস্তবের মাটিতে। এর ঠিক আগেই মেহদি তারেমির একটি চমৎকার হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে না আসলে হয়তো গল্পের শেষটা অন্যরকম হতো।

খেলা শেষে ইরানের জন্য এখন শুধুই এক বুক যন্ত্রণা আর অন্তহীন অপেক্ষা। কোনো বড় ভুল নয়, কেবল মিলিমিটারের এক যান্ত্রিক সিদ্ধান্তের কারণেই আজ তাদের শেষ মুহূর্তের উদযাপিত ইতিহাস স্রেফ এক টুকরো হতাশায় রূপ নিল।

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই সীমাহিন দূর্ভগের মুখে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান ফুটবল দলকে নানা জটিলতায় পড়তে হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক বাধার কারণে ইরান ফুটবল ফেডারেশন ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পর্যন্ত দায়ের করতে বাধ্য হয়। যা তৈরি বৈরি পরিবেশ। চাপের কারণে ইরানের কোচ প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেন যে,  এবারের বিশ্বকাপে ইরানই ‘সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত দল’।

এমনকি, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেক্সিকান ন্যাশনাল গার্ডকে তাদের হোটেলের বাইরে কড়া পাহারায় নিযুক্ত থাকতে দেখা গেছে, যা স্কোয়াডের ওপর এক ধরনের মানসিক অবরুদ্ধতা তৈরি করে। সবমিলিয়ে এবারের আসরে অভাগাই বলতে হচ্ছে ইরানকে।