বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবনের নাম বুর্জ খলিফা। আজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে মরুভূমির বুকে আকাশ ফুঁড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ৮২৮ মিটারের এই বিস্ময়কর ভবনটি কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ছয়টি বছরের ২ কোটি ২০ লাখ কর্মঘণ্টার ক্লান্তিহীন শ্রম আর ধাপে ধাপে অসম্ভবকে সম্ভব করার এক রুদ্ধশ্বাস ইতিহাস।
তবে এই উচ্চতায় পৌঁছানো কোনো একক অলৌকিক ঘটনা ছিল না। এটি ছিল মূলত শত শত ছোট ছোট ইঞ্জিনিয়ারিং সফলতার গল্প, যা ভবনের ফ্লোরগুলোর মতোই একটার ওপর আরেকটা স্তরে স্তরে সাজানো হয়েছে। অর্থায়নের জোগান দেওয়া থেকে শুরু করে বাতাসের ধাক্কা সামলানোর ডিজাইন, কিংবা ইতিহাসের সবচেয়ে উঁচুতে কংক্রিট পাম্প করার অবিশ্বাস্য কৌশল- কীভাবে তৈরি হলো এই বিশ্ববিস্ময়? চলুন জেনে নেওয়া যাক এর আদ্যোপান্ত।
নির্মাণ কাজের শুরু-শেষ
২০০৪ সালের ৬ জানুয়ারি দুবাইতে বুর্জ খলিফা প্রকল্পের জন্য মাটি খননের কাজ শুরু হয়। আর ২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি অর্থাৎ ৫ বছর ১১ মাস ২৯ দিন পর জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টাওয়ারটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সম্মানে এর নামকরণ করা হয় ‘বুর্জ খলিফা’।
রেকর্ড গড়ার মেগা বাজেট: যখন ক্রেতারাই অর্থায়নের উৎস!
যে কোনো স্কাইস্ক্র্যাপারে কংক্রিট ঢালাইয়ের অনেক আগেই তার অর্থায়নের রাস্তা পাকা করতে হয়। বুর্জ খলিফার পেছনে খরচ হয়েছিল প্রায় ১.৫ বিলিয়ন বা ১৫০ কোটি ডলার! ২০০৫ সালে এই বিশাল বাজেটের আন্ডাররাইটিং বা অর্থায়নের চুক্তি সই করে এক ব্যাংক সিন্ডিকেট, যার মধ্যে ছিল মাসরেক ব্যাংক, এমিরেটস ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল ও আবুধাবি কমার্শিয়াল ব্যাংক। আর এই কনস্ট্রাকশন চুক্তির নেতৃত্বে ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি (Samsung C&T), যাদের সহযোগী পার্টনার ছিল বেলহাসা সিক্স কনস্ট্রাক্ট (BESIX) ও আরবটেক (Arabtec)।
কিন্তু দীর্ঘ ছয় বছরের নির্মাণকাজের সময় প্রকল্পটিকে দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন ভবনটির বিভিন্ন ফ্লোরের দূরদর্শী ক্রেতারা। ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ‘ইমার’ (Emaar) প্রকল্পটিকে ক্যাশ-পজিটিভ বা সচল রাখতে এক দুর্দান্ত চাল চালেন। তারা ভবনটি সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই, অর্থাৎ কোনো বাসিন্দা সেখানে পা রাখার বহু আগেই ভবনের প্রায় ৯০ শতাংশ ইউনিট ‘অব-প্ল্যান’ (নকশা দেখিয়ে আগেভাগেই বিক্রি) বিক্রি করে দেন। এর ফলে হবু মালিকদের অগ্রিম টাকায় ভর করেই তৈরি হতে থাকে তাদের স্বপ্নের আবাসন।
বাতাসে যেন ভেঙে না পড়ে: স্থায়িত্বের জাদুকরী ডিজাইন
বুর্জ খলিফার এই চোখধাঁধানো আকৃতি কেবল সৌন্দর্যের জন্য নয়, এর পেছনে রয়েছে খাঁটি কাঠামোগত বিজ্ঞান। বিখ্যাত আর্কিটেকচার ফার্ম ‘স্কিডমোর, ওয়িংসঅ্যান্ড মেরিল’ (SOM) এই টাওয়ারের নকশা করেছে ইংরেজি ওয়াই (Y) বর্ণমালার মতো তিন-ডানা বিশিষ্ট ফুটপ্রিন্টের ওপর ভিত্তি করে। একে বলা হয় ‘বাট্রেসড-কোর’ সিস্টেম।
এর কেন্দ্রে রয়েছে একটি ষড়ভুজাকার ভিত্তি, আর তাকে চারপাশ থেকে প্রহরীর মতো ধরে রেখেছে তিনটি ডানা। এই সিস্টেম দুটি বড় কাজ করে- প্রথমত, এটি ভবনটিকে নিচে একটি চওড়া ও স্থিতিশীল ভিত্তি দেয় যা ওপরে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সরু হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, ঝোড়ো বাতাসে ভবনের এক একটি ডানা অন্য ডানাকে সাপোর্ট দেয়, যার ফলে বাইরের কোনো অতিরিক্ত ব্রেসিং বা শুধু একটি রিজিড কোরের ওপর ভরসা করতে হয় না।
উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে আরেকটি ভয়ংকর সমস্যা দেখা দেয়, আর সেটি হলো- বাতাস। মাটি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উঁচুতে বাতাস সমানভাবে আঘাত করে না। সেখানে বাতাস ভবনের গায়ে লেগে ঘূর্ণি তৈরি করে, যাকে বলা হয় ‘ভর্টেক্স’। এই ঘূর্ণি যদি একটি নির্দিষ্ট তালে বা রিদমে ভবনকে ধাক্কা দিতে থাকে, তবে পুরো ভবন দুলতে শুরু করবে, যে কারণে অনেক বড় বড় সেতু ভেঙে পড়ে।
এসওএমের প্রকৌশলীরা এই সমস্যার এক দুর্দান্ত সমাধান বের করলেন। ভবনটি যত ওপরে উঠেছে, তার চারপাশের দেয়ালগুলো নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর ধাপে ধাপে ভেতরের দিকে সরে গেছে। এর ফলে ওপরের দিকে বাতাস কোনো নির্দিষ্ট এক ধাঁচের প্রোফাইল বা দেয়াল পায় না (সেটব্যাক)। বাতাসের এই ক্রমাগত পরিবর্তন ঘূর্ণিগুলোকে এক তালে কাঁপতে দেয় না। সোজা কথায়, এটি একক কোনো সোজা টাওয়ার নয়, বরং ঘূর্ণায়মান একগুচ্ছ সেটব্যাক- যা কোনো অতিরিক্ত স্টিল ছাড়াই কেবল জ্যামিতিক উপায়ে বাতাসকে বোকা বানিয়ে দেয়!
মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা আসল শক্তি
আকাশের দিকে যতই উঁচুতে যাওয়া হোক না কেন, মাটির নিচের ভিত্তি যদি তা ধরে রাখতে না পারে তবে সবটাই বৃথা। বুর্জ খলিফা দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ৩.৭ মিটার পুরু এক বিশাল রিইনফোর্সড কংক্রিট রাফ্টের ওপর। আর এই রাফ্টটি আবার ভর করে আছে ১৯২টি বোরড কংক্রিট পাইলের ওপর, যা মাটির ৪৫ থেকে ৫০ মিটার গভীর পর্যন্ত নেমে গেছে। এই ধরনের মেগা প্রজেক্টে এটিই ইতিহাসের অন্যতম গভীরতম ফাউন্ডেশন। কিন্তু দুবাইয়ের ভূগর্ভস্থ পানি অত্যন্ত লবণাক্ত এবং ক্ষয়কারী। সাধারণ কংক্রিট দিলে তা অল্প দিনেই নষ্ট হয়ে যেত। তাই প্রকৌশলীরা এখানে বিশেষভাবে তৈরি সালফেট এবং ক্লোরাইড-প্রতিরোধী কংক্রিট মিক্স ব্যবহার করেছেন, যা মাটির নিচের এই ভিতকে শত বছরেও ক্ষয় হতে দেবে না।
গনগনে তাপে কংক্রিটের ওপরে ওঠার লড়াই!
রাস্তায় দাঁড়িয়ে কংক্রিট ঢালাই করা সহজ, কিন্তু ৬০০ মিটার উঁচুতে আকাশে কংক্রিট পাম্প করা? তাও আবার এমনভাবে যাতে তা মাঝপথে জমে না গিয়ে একদম নিখুঁতভাবে সেট হয়? দুবাইয়ের মরুভূমির গনগনে গরমে কংক্রিট কিন্তু বেশিক্ষণ তরল থাকে না। একটু দেরি হলেই তা পাইপের ভেতরেই জমে পাথর হয়ে যাবে!
বুর্জ খলিফায় মোট ৩ লাখ ৩০ হাজার কিউবিক মিটার কংক্রিট ও ৩৯ হাজার টনেরও বেশি রিইনফোর্সমেন্ট স্টিল লেগেছিল, যার সিংহভাগই পাম্প করে উঁচুতে তুলতে হয়েছিল। এই অসম্ভবকে সম্ভব করতে কেমিক্যাল কোম্পানি ‘বাস’ (BAS) এক বিশেষ অ্যাডমিক্সচার তৈরি করে। এই রাসায়নিক মিশ্রণের ফলে কংক্রিট সাধারণ সময়ের চেয়ে দীর্ঘক্ষণ তরল থাকে।
পারস্য উপসাগরের তীব্র তাপদাহের মধ্যেও কংক্রিটটি প্রায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় তরল ও কাজ করার উপযোগী থাকত। এই সামান্য কেমিক্যাল টুইকের ওপর ভর করেই বুর্জ খলিফা গড়ল এক নয়া বিশ্বরেকর্ড- সর্বোচ্চ উল্লম্ব কংক্রিট পাম্পিংয়ের রেকর্ড! প্রথমে ৬০১ মিটার ও পরে তা বাড়িয়ে ৬০৬ মিটার উঁচুতে কংক্রিট পাম্প করা হয়, যা আগে তাইপেই ১০১-এর দখলে ছিল। গল্পটা শুনতে সাধারণ মনে হলেও, এটাই ছিল এই প্রজেক্টের সবচেয়ে কঠিনতম সমস্যার সমাধান।
২৬ হাজার কাচের চাদরে মোড়ানো অবয়ব
বুর্জ খলিফার গা থেকে যে ঝিলমিলে আলো বিচ্ছুরিত হয়, তার রহস্য লুকিয়ে আছে এর বাহ্যিক আবরণে। ভবনটির বাইরের অংশ মুড়ে দিতে ব্যবহৃত হয়েছে প্রায় ২৬ হাজারটি হাতে কাটা রিফ্লেকটিভ গ্লাস প্যানেল, যার সঙ্গে যুক্ত ছিল অ্যালুমিনিয়াম ও টেক্সচার্ড স্টেইনলেস-স্টিল স্প্যান্ড্রেল প্যানেল। এগুলো বেছে নেওয়ার মূল কারণ ছিল দুটি- এক, এটি দুবাইয়ের তীব্র গ্রীষ্মের তাপ প্রতিরোধ করতে পারে এবং দুই, দিনের আলোর পরিবর্তনের সাথে সাথে এটি ভবনের রঙ পরিবর্তন করে এক মায়াবী রূপ দেয়।
এই বিশালাকার ক্ল্যাডিংয়ের কাজে চীন থেকে নিয়ে আসা ৩০০ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞ ক্ল্যাডিং স্পেশালিস্ট দিনরাত কাজ করেছেন। তবে এই কাচের প্যানেলগুলো ওপরে লাগানোর আগে ল্যাবরেটরিতে এক অদ্ভুত পরীক্ষা চালানো হয়। মরুভূমির ধূলিঝড় বা উচ্চ-উচ্চতার তীব্র বাতাসের ঝাপটা এই কাচ সইতে পারবে কি না, তা পরীক্ষা করতে একটি আস্ত বিমানের ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছিল! সেই বিমান ইঞ্জিনের প্রচণ্ড বাতাসের ঝাপটা দিয়ে প্যানেলগুলোর সহনশীলতা নিশ্চিত করা হয়।
মানুষ আর ক্রেনের অবিশ্বাস্য মেলবন্ধন
টাওয়ারটি যখন ফ্লোরের পর ফ্লোর উঁচুতে উঠছিল, তখন ভারী জিনিসপত্র ওপরে তোলার মূল কাজটি করছিল তিনটি হেভি-ডিউটি ডিজেল ক্রেন। সুপারটল ভবনের ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক হলেও আসল খেলা শুরু হয় ভবনটি তৈরি হয়ে যাওয়ার পর। কারণ, ক্রেনগুলো নামানোর জন্য তো তার চেয়ে উঁচু আর কোনো ক্রেন বা কাঠামো বাকি নেই! তখন ক্রু মেম্বাররা এক অভিনব বুদ্ধি খাটালেন। তারা বড় ক্রেনটি দিয়ে প্রথমে তুলনামূলক একটি ছোট ক্রেন বসালেন, তারপর বড় ক্রেনটি খুলে সেই ছোট ক্রেন দিয়ে নিচে নামালেন। এরপর সেই ছোট ক্রেনটি নামাতে আরও ছোট একটি ক্রেন ব্যবহার করলেন। এভাবে ধাপে ধাপে রিভার্স প্রসেসে ক্রেনগুলো নিচে নামিয়ে আনা হয়।
কংক্রিট আর কাচের এই বিশাল পরিসংখ্যানের ভিড়ে মানুষের শ্রমের কথা ভুলে গেলে চলবে না। বুর্জ খলিফার নির্মাণকাজ যখন একদম তুঙ্গে, তখন প্রতিদিন সাইটে কাজ করতেন বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের ১২ হাজারেরও বেশি শ্রমিক ও প্রকৌশলী। পুরো প্রকল্প জুড়ে সব মিলিয়ে কাজ হয়েছে প্রায় ২২ মিলিয়ন বা ২ কোটি ২০ লাখ কর্মঘণ্টা!
যাতায়াত ও সুরক্ষার অন্দরমহল
এত উঁচু ভবনে হাজার হাজার মানুষের ওঠানামা ও জরুরি সুরক্ষার জন্য নিজস্ব ট্রাফিক লজিক তৈরি করতে হয়েছে। ভবনে রয়েছে মোট ৫৭টি লিফট, যার মধ্যে রয়েছে ডাবল ডেকার বা দোতলা লিফটও। তবে নিচে থেকে কেউ এক টানে একদম ওপরে চলে যায় না। এখানে রয়েছে ‘স্কাই লবি’ সিস্টেম। বাসিন্দাদের লিফট পরিবর্তন করে নিজেদের গন্তব্যে যেতে হয়।
আর আগুন লাগলে কী হবে? ৮০০ মিটার ওপর থেকে তো সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে নিচে নামা সম্ভব নয়। তাই সুরক্ষার জন্য প্রতি ২৫ তলা পর পর তৈরি করা হয়েছে বিশেষ ‘রিফিউজ ফ্লোর’। এই ফ্লোরগুলো সম্পূর্ণ ফায়ার-প্রোটেক্টেড বা অগ্নি-প্রতিরোধী। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে মানুষজন নিচে নামার জন্য হুড়োহুড়ি না করে এই নিরাপদ ফ্লোরগুলোতে আশ্রয় নিতে পারবেন এবং উদ্ধারকাজের জন্য অপেক্ষা করতে পারবেন।
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রেও ভবনটি অনন্য। এখানে ব্যবহৃত হয় বরফ-ভিত্তিক কুলিং সিস্টেম। রাতে যখন দুবাইতে বিদ্যুতের চাহিদা ও দাম কম থাকে, তখন প্রজেক্টে বিপুল পরিমাণ বরফ তৈরি করে রাখা হয়। দিনের বেলা সেই বরফ গলিয়ে পুরো ভবনের এয়ার কন্ডিশনিংয়ের কাজে সাহায্য নেওয়া হয়, যা সাধারণ এসি’র ওপর চাপ অনেক কমিয়ে দেয়।
এখানেই শেষ নয়, এসি থেকে নির্গত ঘনীভূত পানি অপচয় না করে পাইপের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় ও তা বুর্জ খলিফার চারপাশের বিশাল ল্যান্ডস্কেপ বাগানের সেচের কাজে ব্যবহার করা হয়।
চূড়া নির্মাণ ও ফিনিশিংয়ের কারিশমা
বুর্জ খলিফার ওপরের ওই সূক্ষ্ম সূঁচালো স্পায়ার বা চূড়াটি দেখে মনে হতে পারে কোনো বিশাল ক্রেন হয়তো ওপর থেকে এনে ওটা বসিয়ে দিয়েছে। কিন্তু না! ৪ হাজার টন ওজনের ওই নিরেট ইস্পাতের কাঠামোটি আসলে তৈরি করা হয়েছিল ভবনের একদম ভেতরের অংশে। তারপর হাইড্রোলিক প্রেসার দিয়ে ধাক্কা দিয়ে দিয়ে সেটিকে টেলিস্কোপের মতো নিচ থেকে ওপরে ঠেলে বের করা হয়, যতক্ষণ না এটি তার পূর্ণ উচ্চতায় পৌঁছায়।
প্রকৌশলদের মতে, বাহ্যিক কাঠামোর চেয়েও ভেতরের এই নিখুঁত ফিনিশিংয়ের কাজটাই ছিল পুরো প্রজেক্টের অন্যতম কঠিন অংশ।
এই ভবন নিয়ে যত গুজব
এত বড় এবং বিখ্যাত একটি ভবনকে ঘিরে দুনিয়াজুড়ে বহু মুখরোচক গল্প বা মিথ তৈরি হবে, সেটাই স্বাভাবিক। তবে তার বেশিরভাগেরই কোনো ভিত্তি নেই। যেমন:
মিথ ১: বুর্জ খলিফা নাকি মহাকাশ থেকে খালি চোখে দেখা যায়! এটি সম্পূর্ণ ভুল তথ্য।
মিথ ২: এত উঁচুতে থাকায় এতে নাকি কখনোই বজ্রপাত হয় না বা এটি বজ্রপাত প্রতিরোধী! বাস্তবে আর দশটা উঁচু ভবনের মতোই এতে শক্তিশালী বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থা লাগানো আছে।
মিথ ৩: এর প্রধান ক্রেন অপারেটরকে নাকি খুশি হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছিল! এটিও কেবলই লোককথা, কোনো দাপ্তরিক নথিতে এর সত্যতা নেই।
তবে কোনো রটনা বা অতিরঞ্জন ছাড়াই বুর্জ খলিফার নিজের আসল রেকর্ডগুলোই মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন, বিশ্বের সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত বসবাসযোগ্য ফ্লোর, সবচেয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া লিফট ও সর্বোচ্চ উচ্চতায় কংক্রিট পাম্প করার অদম্য রেকর্ড- এই সবকিছুই বুর্জ খলিফাকে মানব সভ্যতার ইতিহাসের এক অনন্য বিস্ময় বানিয়ে রেখেছে!
সূত্র: আরব বিজনেস, বুর্জ খলিফা অফিসিয়াল
এসএএইচ








