ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে। কিন্তু যুদ্ধের প্রকৃত মূল্য তিনি আড়াল করে চলছেন। এমনকি যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ও খরচের সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব না দিয়েই এখন নতুন করে বিশাল অঙ্কের তহবিল দাবি করছেন। সরকারের এ লুকোচুরি ও স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার দ্য লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ইরান যুদ্ধে ১৩ মার্কিন সেনার প্রাণহানির পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও যুদ্ধাস্ত্রের নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতারে মার্কিন স্থাপনাগুলোর বড় ধরনের ভাঙচুর ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রমাণ মিলেছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মার্কিন বিমানবাহিনীর অত্যন্ত বিরল ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ বিমান এবং থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডারও ধ্বংস হয়েছে। গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে জানা গেছে, কেবল বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম বহরের সদর দপ্তর ও নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি ঘাঁটিটি মেরামত করতেই প্রায় ৪০ কোটি ডলার খরচ হবে। তবে ধ্বংসস্তূপ সরানো এবং ভবনের ভেতরের নষ্ট হওয়া অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনের খরচ যোগ করলে এই চূড়ান্ত বিল আরও কয়েক গুণ বাড়বে। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনের চেয়ে সাংবাদিকরাই জনগণকে বেশি তথ্য দিচ্ছেন। সম্প্রতি সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন কমিটির এক শুনানিতে ওয়াশিংটনের সিনেটর প্যাটি মারে যখন খরচের সুনির্দিষ্ট হিসাব চান, তখন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ কোনো সংখ্যা না দিয়ে উলটো যুদ্ধ শুরুর যৌক্তিকতা নিয়ে সাফাই গান। এমনকি পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার জে হার্স্টও কোনো আনুমানিক হিসাব দিতে ব্যর্থ হন। বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে ইরাক বা আফগানিস্তান যুদ্ধের সময়ও প্রশাসন খরচের স্পষ্ট খতিয়ান কংগ্রেসের কাছে জমা দিত। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত বিলের জায়গাটা সম্পূর্ণ ফাঁকা রেখেই অর্থ পাশের দাবি জানাচ্ছে, যা আইনপ্রণেতাদের বাজেট পাশের অধিকারকে খর্ব করে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখন দাবি তোলা হচ্ছে, কোনো হিসাব ছাড়া অন্ধভাবে টাকা দেওয়া মানে করদাতাদের অর্থে সেই একই দুর্বল সামরিক অবকাঠামো আবার তৈরি করা।








