আটলান্টিক সিটি, নিউ জার্সি, যুক্তরাষ্ট্র: চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, পেশাগত উৎকর্ষ, মানবিক সেবা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে সেন্ট্রাল বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (সেন্ট্রাল বিএমএএনএ) বার্ষিক সম্মেলন ২০২৬।
ট্রপিকানা রিসোর্টে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাঁচ শতাধিক চিকিৎসক, তাঁদের পরিবার, শিক্ষাবিদ, কমিউনিটি নেতা ও অতিথি অংশ নেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
সম্মেলনের আলোচনায় উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি চিকিৎসকদের অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কীভাবে বাংলাদেশসহ বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ও মানবিক কল্যাণে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও উত্তর আমেরিকার চিকিৎসক সমাজের মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও পেশাগত সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সেন্ট্রাল বিএমএএনএর সভাপতি ডা. ফজলুল ইউসুফের সভাপতিত্বে সম্মেলনের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কনভেনর ডা. মুজিবুর রহমান মজুমদার ও চিফ কো-অর্ডিনেটর ডা. জামালউদ্দিনের নেতৃত্বে বিভিন্ন কমিটির সমন্বিত প্রচেষ্টায় সম্মেলনের আয়োজন সম্পন্ন হয়। এতে সার্বিক পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সেক্রেটারি ডা. খন্দকার মাসুদুর রহমান।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউ জার্সির লেফটেন্যান্ট গভর্নর ড. ডেল জি. ক্যাল্ডওয়েল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আটলান্টিক সিটির মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র, চিকিৎসা শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. কর্নাড ফিশার, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন এবং নাগরিক সংগঠন ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।
ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সম্মেলনে শুভেচ্ছা জানান নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ও বিশিষ্ট হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জোবায়দা রহমান এবং বিশিষ্ট হৃদ্রোগ সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর কবির।
চিকিৎসা, জনস্বাস্থ্য, মানবিক নেতৃত্ব, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মেলনে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।
সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে আগত বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও অতিথি অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের পরিচালক ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেন্নুর, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুস শাকুর খান, বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের সভাপতি প্রফেসর আলী হোসেন, প্রফেসর রহমানউল্লাহ বারী, গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেডের ড. আরমান সিদ্দিকী এবং গ্রামীণ কল্যাণের মঈনুদ্দিন চৌধুরী।
বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে আগত চিকিৎসক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও কমিউনিটি নেতাদের অংশগ্রহণে সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম। সম্মেলন উপলক্ষে প্রকাশিত মেডিকেল জার্নাল ও কনভেনশন স্যুভেনিরে চিকিৎসাবিষয়ক প্রবন্ধের পাশাপাশি সেন্ট্রাল বিএমএএনএর কার্যক্রম, সংগঠনের ইতিহাস, সদস্যদের সাফল্য এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অবদান তুলে ধরা হয়।
তরুণ চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ ক্যারিয়ার ও নেতৃত্ববিষয়ক কর্মশালা পরিচালনা করেন ডা. মোহাম্মদ হোসাইন মিন্টু। এতে রেসিডেন্সি, ফেলোশিপ, উচ্চতর প্রশিক্ষণ, গবেষণা, পেশাগত নেটওয়ার্কিং ও নেতৃত্ব বিকাশের বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। আয়োজকদের মতে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাংলাদেশি চিকিৎসকদের পেশাগত অগ্রযাত্রায় এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্মেলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল পরিবারকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচি। এতে চিকিৎসকদের পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয় এবং সম্মেলনটি পেশাগত কার্যক্রমের পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
নবনির্বাচিত কমিটি সংগঠনের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন উদ্যোগ গ্রহণ, তরুণ চিকিৎসকদের পেশাগত বিকাশে সহযোগিতা, জনস্বাস্থ্য ও মানবিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ ও উত্তর আমেরিকার চিকিৎসকদের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
আটলান্টিক সিটির এ সম্মেলন শুধু প্রবাসী চিকিৎসকদের পুনর্মিলন নয়; বরং পেশাগত উৎকর্ষ, জ্ঞান বিনিময়, মানবিক দায়বদ্ধতা ও নেতৃত্ব বিকাশের একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সামনে এসেছে। প্রবাসে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের অর্জনকে বৃহত্তর মানবকল্যাণে কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশ ও উত্তর আমেরিকার চিকিৎসক সমাজের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়েই শেষ হয় সেন্ট্রাল বিএমএএনএ বার্ষিক সম্মেলন ২০২৬।
এমওএস/এমএএইচ








