মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ এবং আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চলে এই অবরোধ। সাড়ে তিন ঘণ্টার এই কর্মসূচিতে মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।আশুগঞ্জ টোল প্লাজা থেকে চান্দুরা পর্যন্ত বিস্তৃত এই যানজটে আটকা পড়ে কয়েক শ দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক। তীব্র গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নারী, শিশু ও রোগীসহ সাধারণ যাত্রীরা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার বাহাদুরপুর, দুর্গাপুর ও তাজপুর গ্রামের মানুষ মানববন্ধন করেন। ওই দিন উপজেলা প্রশাসন ও থানা-পুলিশ বালু উত্তোলন বন্ধের আশ্বাস দিলেও শুক্রবার রাতে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেখাচ্ছে। এর প্রতিকার ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতেই আজ রাজপথে নামেন তারা।মহাসড়কে আটকা পড়া কসবা থেকে ঢাকাগামী যাত্রী মো. দেলোয়ার হোসাইন বলেন, ‘পরিবার নিয়ে তিন ঘণ্টা ধরে বাসে বসে আছি। শত শত মানুষ রোদে কষ্ট পাচ্ছে। কখন যান চলাচল স্বাভাবিক হবে কেউ বলতে পারছে না।’সিলেট থেকে আসা এনা পরিবহনের যাত্রী কাউছার বলেন, ‘বিকেল ৩টায় ঢাকায় জরুরি মিটিং ছিল, কিন্তু ১টা বেজে গেলেও এখানেই আটকে আছি। শিশু ও রোগীদের কষ্ট দেখে খুব খারাপ লাগছে।’জানতে চাইলে আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম সফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে।’ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ওবায়দুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখাই এখন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’বিকেল পৌনে দুইটার দিকে পুলিশের আশ্বাসে এলাকাবাসী সড়ক ছেড়ে দিলে ধীরে ধীরে যান চলাচল শুরু হয়। তবে দীর্ঘ যানজটের কারণে স্বাভাবিক গতি ফিরতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।