দীর্ঘদিনের পাওনা টাকা পরিশোধ না হওয়া ও পারিশ্রমিক কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর বাফার গোডাউনে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন শতাধিক শ্রমিক। এতে গোডাউনে সার ওঠা-নামা ও লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) শ্রমিক অসন্তোষের কারণে গোডাউনের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে সার নিতে আসা ডিলার ও ট্রাকচালকরা বিপাকে পড়েছেন। সারবোঝাই ট্রাকগুলো গোডাউনের বাইরে অপেক্ষা করছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে তাদের পাওনা টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে না। বিশেষ করে নতুন ঠিকাদার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পাওনা পরিশোধ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। পাওনা টাকা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত কাজ না করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
শ্রমিকরা জানান, বিএডিসি গোডাউনে সার পরিবহনের ক্ষেত্রে ডিলারদের কাছ থেকে বস্তাপ্রতি ৩ টাকা শ্রমিকদের দেওয়ার কথা থাকলেও সেখান থেকে অতিরিক্ত ১ টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, গত দেড় বছরে এভাবে শ্রমিকরা বিপুল পরিমাণ অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এ ছাড়া আগে প্রতি টন সারের জন্য শ্রমিকদের ১৪ টাকা ৪০ পয়সা করে দেওয়া হলেও বর্তমানে তা কমিয়ে মাত্র ১ টাকা ১০ পয়সা করা হয়েছে বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। দীর্ঘদিনের পাওনা ও পারিশ্রমিক নিয়ে সৃষ্ট এই অসন্তোষ থেকেই তারা কাজ বন্ধ করেছেন বলে জানান।

কাজ বন্ধ থাকায় বাফার গোডাউনে সার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে সার নিতে আসা ট্রাকগুলো গোডাউনের বাইরে অপেক্ষা করছে। এতে সময় ও অর্থের ক্ষতির মুখে পড়েছেন ট্রাকচালকরাও।
শ্রমিকদের অভিযোগের বিষয়ে বিসিআইসির উপ-মহাব্যবস্থাপক আবু সাইদ রব্বানী বলেন, ঠিকাদার ও ডিলাররা সার নিতে এলেও শ্রমিকরা কাজ করছেন না। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। সমাধান করা সম্ভব না হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
অন্যদিকে শ্রমিকদের পাওনা ও পারিশ্রমিক কমে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার আব্দুল মজিদ মণ্ডল বলেন, সর্দারের সঙ্গে আঁতাত করে ফ্যাসিস্ট আমলের কিছু শ্রমিক উল্টো ঠিকাদারের টাকা আত্মসাৎ করছেন। নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদারকে টাকা দেওয়া হচ্ছে না। তারা কাজ বন্ধ করলে আমি সেখানে যাই। তখন শ্রমিকরা আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন।
এদিকে দীর্ঘদিনের পাওনা পরিশোধ এবং শ্রমিকদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করে দ্রুত লোড-আনলোড কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকরা। একই সঙ্গে বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে সার সরবরাহে আরও বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মহসীন ইসলাম শাওন/কেএইচকে/এএসএম








