যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তিটি অসংগতিপূর্ণ হলে তা সংশোধন করতে হবে। পাশাপাশি চুক্তির ধারাগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে হবে।
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস নয়, অবিলম্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সংশোধন করো’ শীর্ষক সমাবেশে গণসংহতি আন্দোলন এসব দাবি জানায় বলে দলটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
সমাবেশে গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, গণ–অভ্যুত্থানের পর জনগণের রায়ে গঠিত সরকারের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে চুক্তি করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার বিদায়ের দুই দিন আগে তড়িঘড়ি করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্যচুক্তি করেছে, তা বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের সক্ষমতাকে খর্ব করেছে। এর মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌমত্বও ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য অর্থনীতিবিদ, কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের আহ্বান জানান আবুল হাসান রুবেল। তিনি বলেন, এই কমিটি বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ধারাগুলো চিহ্নিত করে সংশোধনের সুপারিশ করবে।
গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ বলেন, রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত কোনো সরকার দেশের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপস করে কোনো চুক্তি করতে পারে না। পুরো চুক্তি সংসদে আলোচনা করার দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে গণ–অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা থেকে সরকারকে চুক্তির শর্তগুলো পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আখতার। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।
দলটির রাজনৈতিক পরিষদের আরেক সদস্য মনির উদ্দিন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই এই সরকারের উচিত চুক্তিটি পর্যালোচনা করে সংসদে আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা। একই সঙ্গে তিনি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নেরও আহ্বান জানান।
সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী দেওয়ান আবদুর রশিদ। তিনি বলেন, চুক্তিটি এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়নের পর্যায়ে যায়নি। তাই এখনই অসংগতিপূর্ণ ধারাগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা। এতে দলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।








