সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রেশনের সুবিধা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার মনে করছে, মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক সরকারি চাকরিজীবী আর্থিক সংকটে পড়ছেন। অনেকেই ধারদেনা ও ঋণের চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন, যা দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে প্রভাব ফেলছে। রেশনের সুবিধা চালু হলে এই চাপ কমবে এবং কর্মীদের কাজে মনোযোগ বাড়বে।
জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে দেশে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্য রেশনের সুবিধা চালুর প্রস্তাব দেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক। অর্থ বিভাগের আওতাধীন এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। অর্থাৎ ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের রেশনের সুবিধা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটি স্বল্প, মধ্য বা দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে কি না, সে বিষয়ে অর্থ বিভাগ প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এবং তিন মাস অন্তর বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করবে।
১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রেশনের সুবিধার আওতায় আনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এবং সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া। তিনি বলেন, ‘রেশনের সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী।’
১২তম গ্রেডের পদগুলোর মধ্যে রয়েছে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, হিসাব সহকারী বা ক্যাশিয়ার, সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর, গুদামরক্ষক, নিরাপত্তা পরিদর্শক, ডাটা এন্ট্রি সুপারভাইজার, অডিটর ও জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর। ২০তম গ্রেড সরকারি চাকরির সর্বনিম্ন বা চতুর্থ শ্রেণির স্তর। সাধারণত এসএসসি বা সমমান শিক্ষাগত যোগ্যতায় এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই গ্রেডের পদগুলোর মধ্যে রয়েছে অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা প্রহরী বা নৈশপ্রহরী, পিওন, মালি ও ঝাড়ুদার বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী।








