চারদিকে গানের উচ্ছ্বাস, মঞ্চজুড়ে একের পর এক ব্যান্ডের পরিবেশনা, দর্শকের করতালি আর প্রিয় গানগুলোর সঙ্গে কণ্ঠ মেলানো—সব মিলিয়ে উৎসবের আবহে অনুষ্ঠিত হলো শ্রীমঙ্গল ব্যান্ড অ্যাসোসিয়েশনের (এসবিএ) ‘এসবিএ ভল–১১’ (SBA) ‘SBA VOL-11’।
গত শুক্রবার (৩ জুলাই ২০২৬) বেলা সাড়ে ৩টা থেকে রাত পর্যন্ত শ্রীমঙ্গলের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে ছিল দর্শকের উপচে পড়া ভিড়। অডিটোরিয়ামের প্রতিটি আসন পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থেকেও অনুষ্ঠান উপভোগ করেন অসংখ্য দর্শক। দীর্ঘ বিরতির পর ধারাবাহিক আয়োজনের এই আসরে ব্যান্ড সংগীতপ্রেমীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
২০১২ সালে মাত্র ছয়টি ব্যান্ড নিয়ে যাত্রা শুরু করা শ্রীমঙ্গল ব্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন (এসবিএ) আজ ১৪ বছরের পথচলায় শ্রীমঙ্গলের ব্যান্ড সংগীতকে সুসংগঠিত একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত করেছে। সেই পথচলার ধারাবাহিকতায় আয়োজিত ‘এসবিএ ভল–১১-এ অংশ নেয় শ্রীমঙ্গলের ১০টি ব্যান্ড।
পরিবেশনা শুরু হয় ড্রাফটলাইন ব্যান্ডের মাধ্যমে। এরপর একে একে মঞ্চ মাতায় আলোড়ন, বেটাল লিফ, অভ্র, সেক্টর–থ্রি, থ্রিল, ইউনিটি, মিঙাল, ইউই এবং সবশেষে প্রহর।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সেক্টর–থ্রি-এর পরিবেশনার আগে শ্রীমঙ্গলের ব্যান্ড সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কনক কান্তি কর (পান্না)-কে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
এরপর প্রদান করা হয় প্রয়াত গীতিকার ও সুরকার এ কে আনামকে মরণোত্তর সম্মাননা। ‘সুরমা নদীর তীরে আমার ঠিকানারে’, ‘ও মায়ার চান্দেরে’সহ অসংখ্য কালজয়ী গানের এই স্রষ্টার সাংস্কৃতিক অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্য ভাই বুলবুল আনামের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত দর্শকের করতালিতে পুরো অডিটোরিয়াম আবেগঘন পরিবেশে রূপ নেয়।
দ্বিতীয় পর্বে শ্রীমঙ্গলের ব্যান্ড সংগীতের বিকাশে বিশেষ অবদানের জন্য যোশেফ দাশগুপ্ত (যশো), জয় সরকার এবং মশিউর রহমান রিপনকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ব্যান্ড সংগীতের পাশাপাশি মানবিক একটি উদ্যোগও নেওয়া হয়। ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত শ্রীমঙ্গলের জয়নগর এলাকার ১৯ বছর বয়সী তরুণ তূর্য রায়ের চিকিৎসার জন্য দর্শকদের কাছে আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানানো হয়। উপস্থিত অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই মানবিক উদ্যোগে সাড়া দেন।
উপস্থাপনায় শ্রীমঙ্গলের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাস, এসবিএর ১৪ বছরের পথচলা এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১২ সালে ছয়টি ব্যান্ড নিয়ে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটিতে বর্তমানে ১৭টি সদস্য ব্যান্ড রয়েছে। গত ১৪ বছরে নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে প্রায় ৪০০ জন শিল্পী এসবিএর ব্যানারে মঞ্চে পরিবেশনা করেছেন।
অনুষ্ঠান শেষে এসবিএর সাধারণ সম্পাদক প্রিতম দেব বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলে ব্যান্ড সংগীতের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এবং নতুন শিল্পীদের জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। দর্শকদের ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আয়োজনে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সংগীতশিল্পী, সাংবাদিক এবং ব্যান্ডপ্রেমীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে ‘এসবিএ ভল–১১’ পরিণত হয় শ্রীমঙ্গলের অন্যতম বড় ব্যান্ড উৎসবে। বিজ্ঞপ্তি








