অধিকাংশ ভারতীয় বাংলা টিভি সিরিয়াল নিয়ে নানা ধরনের বিতর্ক রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধারাবাহিককে কেন্দ্র করে এসব বিতর্ক সামনে এসেছে। এবার ওপার বাংলার কয়েকজন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী টিভি ধারাবাহিক নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। কেবল তাই নয়, ধারাবাহিকে আর কাজ না করার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন তারা। 

ওপার বাংলার বরেণ্য অভিনেত্রী লিলি চক্রবর্তী। ৮৪ বছর বয়সি এই অভিনেত্রী এখনো অভিনয়ে সরব। ছোট ও বড় পর্দায় নিয়মিত অভিনয় করছেন। বিশেষ করে চলচ্চিত্রে তাকে এখন বেশি দেখা যায়। কিন্তু এ অভিনেত্রী আর টিভি ধারাবাহিকে অভিনয় করবেন না বলে মত দিয়েছেন।   

ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে লিলি চক্রবর্তী বলেন, “আমি আর ধারাবাহিকে অভিনয় করতে চাই না। সর্বশেষ ‘নিমফুলের মধু’ করেছিলাম। সেই ধারাবাহিকেও শেষের দিকে অভিনয় করতে ইচ্ছা করত না। অনেকক্ষণ বসিয়ে রাখত। কোনো কাজ না পেলে বাড়িতে বসে থাকব, তবু ধারাবাহিকে অভিনয় করব না।” 

লিলি চক্রবর্তী ছাড়াও একই মত অন্য বর্ষীয়ান শিল্পীদেরও। কিছু দিন আগে টিভি ধারাবাহিক নিয়ে বিরক্তি উগরে দেন অভিনেত্রী রত্না ঘোষাল। বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী বলেন, “ধারাবাহিকে আর অভিনয় করব না বলে ঠিক করেছি। এখনকার ধারাবাহিকে গল্পের কোনো ঠিক নেই। না আছে মাথা, না আছে মুণ্ডু।” 

ধারাবাহিক নাটকের শুটিং সেটের বাস্তবচিত্র ব্যাখ্যা করে রত্না ঘোষাল বলেন, “সকাল থেকে শুটিংয়ে গিয়ে বসে আছি, দেখি চিত্রনাট্যই এসে পৌঁছায়নি। মেকআপ রুমে বসে কত আর গল্প করব। একেক দিন এমন হতো, সকাল থেকে বসে আছি, বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে, তখনো চিত্রনাট্য আসেনি। তাহলে দৃশ্য কখন আসবে? আমি অভিনয়ই বা কখন করব। ওরাই বা আমাকে রাত ৮টার মধ্যে ছাড়াবে কীভাবে?” 

অভিনেত্রী অনামিকা সাহার কন্যা পেশায় একজন অধ্যাপক। কলকাতায় থাকেন না। ফলে স্বামী-স্ত্রী বড় একটি বাড়িতে বসবাস করেন। দুজন মানুষের বড় একটি বাড়িতে থাকতে ভালো লাগে না। এজন্য ধারাবাহিকে অভিনয় এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু টিভি ধারাবাহিক নিয়ে তিনিও ভীষণ বিরক্ত। 

৬৯ বছর বয়সি অভিনেত্রী অনামিকা সাহা বলেন, “বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গে আমাদের মানিয়ে নেওয়া খুব কঠিন। আর পারছি না। রত্না একেবারে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমিও চাই না করতে। কিন্তু বাড়িতে একা থাকতেও ভালো লাগে না।” 

শুটিং সেটে গিয়ে সকলের সঙ্গে কথা বলতে, গল্প করতে ভালোবাসেন অভিনেত্রী অনামিকা। সেই টান থেকেই প্রতিদিন সেটে যান। শুটিং সেটের অব্যবস্থাপনা নিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, “সত্যিই চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনা। অভিনয় নিয়ে পড়াশোনাও কমে গিয়েছে।”