‘১৭ বছরে ওমরা দেশটাক শ্যাষ করছে’ বলে মন্তব্য করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার কাচকোল এলাকায় নদী ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন তিনি।

স্থানীয়দের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘হামার সরকারের মেয়াদ কেবল ৫ মাস। ৫ মাসে (রিপ্যায়ার) সংস্কার করা যায়? বলে প্রশ্ন রাখেন তিনি। ‘আর ওমরা (আ’লীগ) গত ১৭ বছরে দেশটাকে শেষ করছে।’

তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার চায় না ঘর-বাড়ি নদীতে বিলীন হোক। এজন্য বন্যার পূর্বে আমরা জরুরিভাবে কাজ শুরু করেছি। যেহেতু আমি এই অঞ্চলের মানুষ, সেক্ষেত্রে আমার টান আছে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ব্রহ্মপুত্রের তীরে কোন কোন প্রকল্প চলমান আছে, সেগুলো পরিদর্শন করে স্থায়ী প্রকল্প নিতে হবে। ইতোমধ্যে এখানে আমরা কিছু জরুরি প্রকল্পে কাজ শুরু করেছি। ব্রহ্মপুত্রে যে দুটি প্রকল্প চলমান রয়েছে, একটি প্রায় ৯০০ কোটি, অপরটি ৮০০ কোটি টাকার। সেটি যদি আমরা ব্লক দিয়ে করতে পারি, তাহলে আর ভাঙন হবে না।’

জরুরি ভাঙন ঠেকাতে জিওব্যাগ এবং স্থায়ী প্রকল্পের জন্য ব্লকের কাজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

‘১৭ বছরে ওমরা দেশটাক শ্যাষ করছে’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতির প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলছেন, আমরা দুর্নীতিকে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসব, তারপর জিরো পর্যায়ে নিয়ে আসব। বস্তা ফেলবে ১০০টা আর গুনবে ২০০টা, সেই সুযোগ আর নেই। বস্তার ওজন কমানোর সুযোগ নেই। এগুলো আপনারা বুঝে বুঝে নেবেন। এগুলোর প্রত্যেকটা জিনিস আপনাদের টাকার, ইঞ্জিনিয়ার আর ঠিকাদারের ওপর ছেড়ে দেবেন না।’

এর আগে, সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে চিলমারীর রমনা নৌঘাটে পৌঁছে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আমাদের টেকনিক্যাল কমিটি কাজ করেছে। দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশের সঙ্গেও পরামর্শ করেছি। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্প শুরু করা হবে।’

পরে নৌপথে চিলমারীর কাচকোল, উলিপুরের নামাজের চর, রৌমারীর সুখেরবাতি ও রাজিবপুরের কোদালকাটি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি।

রোকনুজ্জামান মানু/কেজে/এএসএম