জমকালো আয়োজনে নিজের জন্মবার্ষিকী ২৫০ বছর পালন করল যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার দেশটিতে দেখা যায় উৎসবের আমেজ। বর্ণিল সব পসরায় সেজেছিল রাস্তা-ঘাট। এ সময় দেশটির ঐতিহাসিক সব অর্জনের কথা তুলে ধরলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের বক্তব্য শেষ হতেই মধ্যরাতের ঠিক আগ মুহূর্তে শুরু হয় ৮ লাখ ৬০ হাজার আতশবাজির এক চোখধাঁধানো প্রদর্শনী। এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আতশবাজির উৎসব হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এপি।

রেভল্যুশনারি ওয়ার বা আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের বিজয় থেকে শুরু করে পশ্চিমে লুইস অ্যান্ড ক্লার্কের অভিযান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সাফল্য এবং মহাকাশ জয়ের মতো গৌরবময় ইতিহাস উঠে আসে ট্রাম্পের বক্তব্যে। ভাষণ চলাকালীন মাঝে মাঝেই ‘ইউএসএ, ইউএসএ’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র বজ ঝড়ের কারণে চতুর্থ জুলাইয়ের উদযাপনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটার কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্পের এই ভাষণ শুরু হয়। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সাময়িক বিলম্ব হলেও ওয়াশিংটন ডিসি থেকে শুরু করে বোস্টন পর্যন্ত সব জায়গাতেই দেশের ২৫০তম বার্ষিকীর স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানগুলো আবার শুরু হয়েছে। ‘অপ্রত্যাশিত আবহাওয়ার’ কারণে ট্রাম্পের ‘স্যালুট টু আমেরিকা’ অনুষ্ঠানটি পিছিয়ে রাত ১১টায় নেওয়া হয়। অন্যদিকে, নিউইয়র্কে আবহাওয়ার ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে আয়োজকরা নির্ধারিত সময়ের আগেই আতশবাজি ফুটিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের রাজ্যগুলোর উৎসব পরিকল্পনা অনুযায়ীই এগিয়ে চলেছে। ন্যাশভিল ও লস অ্যাঞ্জেলেসে তারকাখচিত কনসার্টগুলো মঞ্চ মাতিয়েছে। ভাষণের আগে ট্র–থ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ঝড় যে কোনো অনুষ্ঠানের জন্যই ভাগ্য বয়ে আনে। এগুলো অনুষ্ঠানকে আরও একটু রোমাঞ্চকর করে তোলে! আমরা অপেক্ষা করব, তা রাত ২টাই বাজুক আর এক ঘণ্টা পরেই হোক, আমার কিছু যায় আসে না। মনে হচ্ছে ঝড় কেটে যাবে, সবসময় যেমনটা কেটে যায়। পরিস্থিতি যা-ই হোক আমি সেখানে থাকবই, তবে এই ‘পরিস্থিতি’ সাধারণত ভালো কিছুর দিকেই মোড় নেয়।’ এর আগে, দেশের কিছু অংশে তিন অঙ্কের (ফারেনহাইট) রেকর্ড ভাঙা দাবদাহ এবং হিট অ্যালার্টের কারণে উৎসবের আমেজ কিছুটা ব্যাহত হয়েছিল। মাত্রাতিরিক্ত গরমের কারণে ওয়াশিংটন ডিসির স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডটি বাতিল করতে হয়। শুক্রবার ও শনিবারেও বেশ কয়েকটি রাজ্যে প্যারেড, আতশবাজি এবং অন্যান্য অনুষ্ঠান বাতিল বা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও।

তীব্র গরম আর অনিশ্চয়তাকে উপেক্ষা করেই বহু মানুষ প্রচণ্ড উত্তাপের বড় বড় শহরগুলোতে উৎসবের আমেজে শামিল হতে দলে দলে যোগ দিয়েছেন।