নরসিংদীর মাধবদীতে তিন মাস বয়সী এক শিশুর পা মুচড়ে নির্যাতনের মামলার প্রধান আসামি ফারজানা আক্তারকে (লতা) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১১। আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‍্যাব-১১-এর সিপিএসসি নরসিংদীর একটি দল তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে র‍্যাব-১১ এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে।

এর আগে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির পা মুচড়ে নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে মামলাও করা হয়।

র‍্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে বুধবার (১৫ জুলাই) মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বাদী হয়ে ১৪ জুলাই মাধবদী থানায় মামলা করেন। মামলায় ফারজানা আক্তারকে প্রধান আসামি করা হয় এবং তদন্তের স্বার্থে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

এদিকে, ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্তের স্বামী কাউছার আহমেদ, শ্বশুর আলমাছ মিয়া ও শাশুড়ি শেফালী বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। পরে শাশুড়ি শেফালী বেগমের বিরুদ্ধে ঘটনার সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর কাউছার আহমেদ ও আলমাছ মিয়াকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার বিষয়ে বাদী জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা রিজা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, দুই জায়ের মধ্যে মনোমালিন্য ও আর্থিক বিরোধ থেকেই শিশুটির ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। পারিবারিক সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় শিশুটির পরিবার অভিযোগ দিতে না চাইলেও সামাজিক শৃঙ্খলা ও শিশুর নিরাপত্তার স্বার্থে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলা করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটির মা ঘর থেকে বের হওয়ার পর চাচি লতা ঘরে ঢুকে শিশুটির একটি পায়ে মোচড় দেন। এতে শিশুটি চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করে। পরে লতা দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে যান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে এর আগেও শিশুটির ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য শিশুটির মা গত রোববার সন্ধ্যায় গোপনে মোবাইল ফোনে ভিডিও রেকর্ডিং চালু রেখে বাইরে যান। পরে ভিডিওটি দেখে তিনি ঘটনার সত্যতা জানতে পারেন।

এদিকে, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শিশুর বাবা জহিরুল হক জহির ও মা সাইফা দাবি করেন, বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা হয়েছে, শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং তাঁদের কোনো অভিযোগ নেই। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে সম্পাদনা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

ভিডিওটি প্রকাশের পর শিশুটিকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, তার পা ভাঙেনি। তবে আঘাতের কারণে সে ব্যথা পাচ্ছিল।

বিবৃতিতে র‍্যাব-১১ জানায়, নারী ও শিশু নির্যাতন একটি জঘন্য ও অমানবিক অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে বাহিনী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাঁকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে ভবিষ্যতেও একই পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাবে র‍্যাব।