রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি এবং ঐতিহাসিক ১ আগস্ট ‘ঢাকা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে আগামী ৩১ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট সপ্তাহব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা’ শীর্ষক বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, পরিবেশ সচেতনতা এবং নগর ব্র্যান্ডিংকে বিশ্বদরবারে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এ মেগা উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।
আরও পড়ুন
গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে ১১ দলের ৩৬ দিনের কর্মসূচি
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই উদ্যোগের মূল প্রতিপাদ্য—‘হৃদয়ে ঢাকা’। এটি কেবল একটি উৎসব নয়, বরং ঢাকার ঐতিহ্য পুনর্জাগরণ ও পরিচ্ছন্ন-সবুজ নগরী গড়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি নাগরিক আন্দোলন।
সপ্তাহব্যাপী মূল কর্মসূচিসমূহ
• ৩১ জুলাই: ভোরে ‘ঢাকা হেরিটেজ সাইকেল র্যালি’ এবং বিকেলে হাতি, ঘোড়ার গাড়ি, পালকিসহ ঐতিহ্যবাহী অনুষঙ্গ নিয়ে বর্ণাঢ্য ‘ঢাকা শোভাযাত্রা’।
• ১ আগস্ট (ঢাকা দিবস): ভোরে ‘ঢাকা হেরিটেজ ম্যারাথন’। এদিন বিকেল ৪টায় লালবাগ কেল্লায় উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে এদিন ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ বাস্তবায়নে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করা হবে।
• ২ আগস্ট: লালবাগ কেল্লায় ঘুড়ি উৎসব, বিশেষ ‘ঢাকা আড্ডা’ এবং সন্ধ্যায় ঐতিহ্যবাহী কাওয়ালীসহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
• ৩ আগস্ট: বুড়িগঙ্গা নদীতে (খোলামোড়া ঘাট থেকে ওয়াইজ ঘাট) ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ।
• ১-৭ আগস্ট (সপ্তাহজুড়ে): মধুমিতা সিনেমা হলে ঢাকাকে নিয়ে নির্মিত পুরোনো চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, বিটিভিতে বিশেষ নাটক ও অনুষ্ঠান প্রচার, শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্চনাটক, আর্ট ক্যাম্প ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোতে ‘দি গ্রেট ঢাকা সেল’ এবং সদরঘাট থেকে ঐতিহ্যবাহী নৌযানে ‘হেরিটেজ ক্রুজ’এর বিশেষ ভ্রমণ আয়োজন।
পুরান ঢাকা: ইতিহাসের অলিগলি ও ঐতিহ্যের পদচিহ্ন
সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ১৬১০ সালে সুবাহ বাংলার রাজধানী হিসেবে ঢাকার যাত্রা শুরু। আর ১৮৬৪ সালের ১ আগস্ট ঢাকা পৌরসভা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুরু হয় আধুনিক নগর প্রশাসনের পথচলা। কালের বিবর্তনে যা আজ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। তাই ১ আগস্টকে আমরা ‘ঢাকা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান—বাংলাদেশের প্রতিটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সাক্ষী এই ঢাকা। সেই ঐতিহ্য ধারণ করেই একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও আধুনিক রাজধানী গড়ে তোলাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লক্ষ্য।
আবহাওয়া ও বিকল্প প্রস্তুতি
প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রশাসক বলেন, দেশের সার্বিক আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে নির্ধারিত সময়েই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে সূচি পরিবর্তন হতে পারে। তবে এই প্রাণের উৎসব অবশ্যই উদযাপিত হবে।
একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্মার্ট ও নাগরিকবান্ধব ঢাকা গড়ে তুলতে ডিএসসিসি দেশের সর্বস্তরের নাগরিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, গণমাধ্যম এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের এই আয়োজনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে।
এমএমএ/এমএমকে








