অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ায় বন্দি হওয়া মাদারীপুরের রাজীব মীরের (২০) দেড় বছর ধরে কোনো খোঁজ মিলছে না। তাকে ছাড়াতে মুক্তিপণ হিসেবে লাখ লাখ টাকা দিয়েও সন্ধান না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার পরিবার। ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তার স্বজনরা।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলার ঘুঙ্ঘিয়ারকুল গ্রামের মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য আরশেদ আলী হাওলাদারের ছেলে লোকমান হাওলাদারের প্রলোভনে পড়েন মাদারীপুর সদর উপজেলার হোগলপাতিয়া গ্রামের খবির মীর ও শিল্পী বেগমের দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়া ছেলে রাজীব মীর।

সরাসরি তাকে ইতালি নেওয়ার শর্তে চুক্তি হয় দালালের সঙ্গে। চুক্তি অনুযায়ী ২০ লাখ টাকা লোকমান ও তার চক্রের হাতে তুলে দেয় রাজীবের পরিবার। ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট নিয়ে যাওয়া হয় লিবিয়ায়। সেখানে বন্দি করে নির্যাতন চালিয়ে পরিবার থেকে মুক্তিপণ হিসেবে আরও সাড়ে ১৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে মানব পাচারচক্রের সদস্যরা আরও ২০ লাখ টাকা চান। সেই চাহিদা মতো টাকা না দেওয়ায় দেড় বছর ধরে খোঁজ নেই রাজীবের। এদিকে পরিবার খোঁজ না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সরকারের কাছে রাজীবকে ফিরিয়ে আনার দাবি করেন তার পরিবার।

আরও পড়ুন

অবৈধভাবে ইতালি যাত্রা: ৪৩ লাখ টাকা দিয়েও হদিস নেই যুবকের

এ ঘটনায় গত ১১ জুলাই নিখোঁজের মা শিল্পী বেগম বাদী হয়ে লোকমান হাওলাদারসহ ২৪ জনের নামে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেন। পরে লোকমান ও তার মেয়ে সেতু আক্তারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে ওই দুইজন কারাগারে আছেন।

নিখোঁজের মা শিল্পী বেগম বলেন, দেড় বছর হয়ে গেলো ছেলের কোনো সন্ধান নেই। জমি বিক্রি করে, ঋণ করে লাখ লাখ টাকা দালালদের দিয়েছি, তবুও ছেলের খোঁজ পাচ্ছি না। দালালরা সঠিক কোনো উত্তর দেয় না। তাই আমি সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই। যাতে করে আমার ছেলের সন্ধান পাই এবং দালালদের সঠিক বিচার চাই।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধে মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। সেখান থেকে সরাসরি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা চলমান আছে।

আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এসজেডএইচ/এএসএম