মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়ে ইরানের বন্দরগুলোতে আবারও অবরোধ (ব্লকেড) আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত সব পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এ ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন টানা তৃতীয় রাতেও ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান।
স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, ‘আজ রাতে আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত হানব, আর আগামীকালও একইভাবে আঘাত করব।’ পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে ‘হরমুজ প্রণালীর অভিভাবক’ নামে পরিচিত হবে এবং এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত সব পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় অবরোধ আরোপ করা হলেও ‘অন্যান্য সব দেশ ন্যায্য ও উন্মুক্তভাবে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে পারবে।’ মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার গ্রিনউইচ সময় রাত ৮টা বা বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা থেকে হরমুজ প্রণালীসংলগ্ন ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় অবরোধ কার্যকর করা হবে।
ইরানের বন্দর অবরোধের ঘোষণার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র টানা তৃতীয় রাতেও দেশটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে উপকূলীয় বুশেহর ও বন্দর আব্বাসসহ ইরানের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য, এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল ‘বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া।’
ট্রাম্প হামলার মধ্যেও বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা এখনও সম্ভব। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) তথ্য অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালীতে দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে একজন নাবিক নিহত হয়েছেন।
মার্কিন হামলার পর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (রেভল্যুশনারি গার্ডস) ঘোষণা করে, তারা বাহরাইনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এ ছাড়া জর্ডান জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। এর আগে সোমবার ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস ঘোষণা করেছিল, তারা বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত ও ওমানেও হামলা চালিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা এমন সময় এসেছে, যখন এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সবচেয়ে বড় মাত্রার হামলা-পাল্টা হামলা চলছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালীতে চলাচলে বাধা দিতে শুরু করলে ওয়াশিংটন তেহরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে। পরে জুনে উভয় পক্ষ একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানোর পর সেই বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়।
হোয়াইট হাউস এএফপিকে নিশ্চিত করেছে, গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসকে জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে জড়িয়েছে। এর ফলে কংগ্রেসের অতিরিক্ত অনুমোদন ছাড়াই পেন্টাগন আরও ৬০ দিন ওই অঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারবে।








