সাপ দেখলেই সাধারণ মানুষের সহজাত প্রতিক্রিয়া হলো পিছিয়ে যাওয়া এবং আতঙ্কে দূরে সরে যাওয়া। এটিই বিশ্বের চিরন্তন নিয়ম। তবে একটি গ্রাম আছে, যার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে বিষধর কেউটে সাপ দেখে কেউ আতঙ্কিত হন না। বরং সাপকে সেখানে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবেই অনায়াসে মেনে নেওয়া হয়েছে।
অদ্ভুত এই গ্রামটির নাম শেঠফল। এটি ভারতের মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলায় অবস্থিত। গ্রামটি দেশ-বিদেশে ‘সাপের গ্রাম’ বা ‘স্নেক ভিলেজ অব ইন্ডিয়া’ নামে ব্যাপকভাবে পরিচিত।
আরও পড়ুন
বন্যায় খামার থেকে পালিয়েছে ৯০০ সাপ, এলাকায় চরম আতঙ্ক
মানুষ ও কেউটের অদ্ভুত সহাবস্থান
শেঠফল গ্রামে মানুষ এবং বিষধর কেউটে সাপের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। এই গ্রামে বিষধর সাপের মুখোমুখি হওয়া কোনো আতঙ্কের বিষয় নয়। স্থানীয় বাসিন্দারা সাপের সঙ্গে এক ধরনের আধ্যাত্মিক সংযোগ অনুভব করেন। তারা ভয় পাওয়ার বদলে সাপকে পরম শ্রদ্ধার চোখে দেখেন।
সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই গ্রামের প্রতিটি বাড়ির ভেতরে সাপের জন্য বিশেষ জায়গা রাখা হয়। ঘরের এক কোণে তৈরি করা এই নির্দিষ্ট খোঁপর বা কুঠুরিকে স্থানীয় ভাষায় সাপের পবিত্র বিশ্রামস্থল বলা হয়। সেখানে সাপগুলো কোনো বাধা ছাড়াই নির্বিঘ্নে আশ্রয় নেয়।
আরও পড়ুন
স্কুলের হোস্টেলে ঢুকে ৪ ছাত্রীকে কামড়াল বিষধর সাপ, একজনের মৃত্যু
জীবন যেখানে সাপের সঙ্গে বাঁধা
শেঠফল একটি কৃষিপ্রধান গ্রাম। এখানকার অধিকাংশ মানুষই চাষাবাদের সাথে যুক্ত। পুরো গ্রামে কেউটে সাপকে অবাধে বাড়ির উঠান, ঘরের মেঝে কিংবা রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। সাপকে ঘরের সদস্যের মতোই স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে দেওয়া হয়।
বহু প্রজন্ম ধরে চলে আসা বিশ্বাস ও আচারের ওপর ভিত্তি করেই এই জীবনযাত্রা গড়ে উঠেছে। সনাতন ধর্মীয় সংস্কৃতিতে বিশেষ করে নাগ পঞ্চমীর মতো উৎসবে সাপ পূজার যে ঐতিহ্য রয়েছে, শেঠফলে সেটি কেবল উৎসবের দিনে সীমাবদ্ধ নয়। এটি তাদের প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, পরম শ্রদ্ধার এই পারস্পরিক সম্পর্কের কারণে সাপ কখনও তাদের ক্ষতি করে না।
আরও পড়ুন
বন্যায় ভেসে গিয়ে যেন বিপদে পড়েছে সাপ, কাড়াকাড়ি করে ধরছে মানুষ
পর্যটকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা
বিচিত্র এই গ্রামটি দেখতে প্রতি বছরই দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক ও কৌতূহলী মানুষ সেখানে ভিড় করেন। তবে সেখানে যাওয়ার আগে কিছু বিষয় মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
প্রথমত, স্থানীয় ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের প্রতি পূর্ণ সম্মান দেখাতে হবে। গ্রামবাসীদের সাপের সঙ্গে মেলামেশার দৃশ্য দেখে অতি উৎসাহী হয়ে সাপ ধরার চেষ্টা করা বা তাদের বিরক্ত করা সম্পূর্ণ নিষেধ। স্থানীয়রা সাপের আচরণ বুঝতে পারলেও পর্যটকদের জন্য কেউটে অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। তাই সবসময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা উচিত।
গ্রামের ভেতরে হাঁটার সময় অতিরিক্ত শোরগোল করা যাবে না। এতে সাপ চমকে গিয়ে আক্রমণ করতে পারে। এছাড়া গ্রামের সরু গলি বা কাঁচা রাস্তায় খালি পায়ে না হেঁটে সবসময় ঢাকা জুতো ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। যে কোনো পরিস্থিতিতে গ্রামের মানুষের পরামর্শ মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
সূত্র: এনডিটিভি, ফার্স্টপোস্ট
কেএএ/








