চেক প্রতারণার এক মামলায় নাসরিন শিকদার সেজে আত্মসমর্পণের ঘটনায় প্রতারণা ও জালজালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সেই মনোয়ারা বেগমকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার আসামি মনোয়ারাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আজ দুই দিনের রিমান্ড শেষে তাঁকে আদালতে হাজির করে কোতোয়ালি থানা–পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওয়ালিদ হোসেন তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত মনোয়ারাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন দেন। গত শুক্রবার মনোয়ারা বেগমকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
আদালতের কোতোয়ালি থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ তানিয়া সুলতানা লিপির আদালতে মনোয়ারা বেগম আসামি নাসরিন সিকদার সেজে আত্মসমর্পণ করেন। আদালতের নির্দেশে তাঁকে আটক করা হয় এবং পরে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর তাকে কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয়।
মনোয়ারা বেগমের স্বামীর নাম বিল্লাল হোসেন। তিনি সূত্রাপুর থানার কলতাবাজার এলাকায় থাকেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁওয়ে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চেক প্রতারণার একটি মামলার আসামি নাসরিন শিকদার। শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার চামতা পঞ্চপল্লী গ্রামের শামসুল হকের মেয়ে তিনি। তার স্বামীর নাম জিয়াউর রহমান। তিনি গুলশান ২ নম্বরের ১০৬ নম্বর রোডে থাকেন।
চেক প্রতারণার অভিযোগের দায়ের করা মামলায় গত ১৬ জুন আসামি নাসরিন শিকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। ওই দিন নাসরিন শিকদার অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকায় বৃহস্পতিবার ঢাকার আদালতের আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসেনের মাধ্যমে নাসরিন শিকদার আত্মসমর্পণ করেন। শুনানির সময় নথি উপস্থাপন করা হলে আদালত আসামিকে ডাকেন। কিন্তু আসামির চেহারা দেখে আদালতের সন্দেহ হলে তাঁর নাম ঠিকানা, পিতার নাম, স্বামীর নাম জিজ্ঞেস করলে আসামি অসংলগ্ন কথা বলেন।
আদালতের বিভিন্ন প্রশ্নের একপর্যায়ে আসামি স্বীকার করেন যে, তিনি এই মামলার আসামি নাসরিন সিকদার নন। পরে আদালত তাঁকে আটক করার নির্দেশ দেন।
মামলার নথি থেকে দেখা যায়, রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ এলাকার বাসিন্দা নিবেদিতা আহমেদ তুলিকে তাঁর পাওনা টাকা পরিশোধের উদ্দেশ্যে আসামি নাসরিন শিকদার ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি ২৯ লাখ টাকার ব্র্যাক ব্যাংকের একটি চেক দেন। নিবেদিতা আহমেদ তুলি সোনালী ব্যাংক কন্টিনেন্টাল শাখায় চেকটি জমা দিলে ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় প্রত্যাখ্যাত (ডিসঅনার) হয়। এরপর প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করার পর ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ নিবেদিতা আহমেদ তুলি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। পরে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে নাসরিন শিকদার জামিন পান। এরপর মামলা বিচারের জন্য ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হলে সেখানে হাজির না হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
প্রতারণা এবং জালজালিয়াতির অভিযোগের এই মামলায় মনোয়ারা বেগম, নাসরিন শিকদার ও আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।








