গেল কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার রাস্তাঘাটগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানিতে প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি কাদাপানিতে পরিপূর্ণ। ফলে চরম দুর্ভোগ নিয়ে চলাফেরা করছেন এলাকার বাসিন্দারা। বুধবার ক্যান্টনমেন্টের আলব্দিরটেক, বাইগারটেক, বালুঘাট ও ব্যাপারি মার্কেট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্টনমেন্টের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তাগুলোর সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় এলাকার রাস্তাঘাটে চলাচল করাই দায় হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা সড়কে পদে পদে ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের।

সরেজমিন দেখা গেছে, মিরপুর ১২ নম্বর ডিওএইচএস নতুন ব্রিজ (মন্দিরের পাশ দিয়ে) থেকে সিদ্দিকনগর পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটারের সংযোগ সড়কটি পুরোপুরি বেহাল অবস্থায় রয়েছে। পুরো সড়কটি গ্রামের কাঁচা রাস্তার চেয়েও খারাপ অবস্থায় রয়েছে। সড়কটির বেশির ভাগ অংশজুড়ে রয়েছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়।

স্থানীয়রা জানান, এ সড়কে বালুঘাট, মানিকদি, সিদ্দিকনগর ও বাইগারটেক এলাকার হাজার হাজার লোক চলাচল করেন। বেহাল রাস্তার কারণে তাদের পদে পদে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকায় রাস্তাটি হওয়ায় এটি দ্রুত মেরামত হবে-এমন আশায় বুক বেঁধে আছেন এলাকাবাসী।

ব্যাপারি মার্কেটের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা মালেক বলেন, এই রাস্তা দিয়ে খুব অল্প সময়ে মিরপুর ডিওএইচএস থেকে সিদ্দিকনগর হয়ে বালুঘাট যাওয়া যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবে লোকজনের আনাগোনা বেশি থাকে। অথচ আধা কিলোমিটারের এই সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে কর্তৃপক্ষ গড়িমসি করছে।

ডিএনসিসি ১৫নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত সিদ্দিকনগর এলাকার বাসিন্দা শিপন বলেন, এলাকার ভেতরের রাস্তার কথা কি বলব, মিরপুর ডিওএইচএস থেকে সিদ্দিকনগর পর্যন্ত চলাচলের রাস্তাটি বছরের পর বছর চলাচলের অযোগ্য অবস্থায় পড়ে আছে। এ রাস্তায় চলতে আমাদের যে কষ্ট হয় এটা কাকে বলব? যারা আগে ক্ষমতায় ছিল তারা এলাকার রাস্তাঘাট ঠিক করতে কোনো ভূমিকাই রাখেননি।

আলব্দিরটেকের বাসিন্দা সবুজ খান বলেন, ৭-৮ বছর ধরে আমরা কষ্টে আছি। বৃষ্টি হওয়া মানেই আমাদের দুর্ভোগ। ডিএনসিসির সাবেক ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহির বলেন, সড়টির টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ। খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে। ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম বলেন, ওই এলাকায় ৩৭ কোটি টাকার রাস্তার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। আরও উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।