টানা ভারী বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিচু এলাকায় পানি জমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ। কোথাও হাঁটুসমান পানি, কোথাও জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
রোববার (১২ জুলাই) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক অফিসগামী কর্মজীবী মানুষ জুতা হাতে বা ব্যাগে নিয়ে রাবারের স্যান্ডেল পরে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। অফিসে গিয়ে হাত-পা পরিষ্কার করে পরে জুতা বদলানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা।
একই সঙ্গে বৃষ্টিকে পুঁজি করে রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল রাইড-শেয়ারিংয়ের ভাড়া অনেক ক্ষেত্রে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।
রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা ইকবাল মাহমুদ বলেন, সকালে ভেবেছিলাম একটু আগে বের হলে স্বস্তিতে অফিসে যেতে পারব। কিন্তু রাস্তায় নেমে দেখি অলিগলিতে প্রচুর পানি জমে আছে। জুতা পরে হাঁটা সম্ভব হয়নি। তাই রাবারের স্যান্ডেল পরে বের হয়েছি, জুতা ব্যাগে রেখেছি। অফিসে গিয়ে পরিষ্কার হয়ে তারপর জুতা পরব।
টানা বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়কে পানি উঠে জনভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে/ছবি-জাগো নিউজ
কারওয়ান বাজারের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ বলেন, বাসার সামনেই হাঁটুসমান পানি। ছাতা নিয়ে অনেক কষ্ট করে বের হয়েছি। অফিসের পোশাক ও জুতা ব্যাগে নিয়ে যাচ্ছি। অফিসে গিয়ে কাপড় বদলাতে হবে।
একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হোসাইন বলেন, প্রতিদিন ৬০ টাকায় রিকশায় অফিসে যাই। আজ একই পথে ১০০ টাকা ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। বৃষ্টির অজুহাতে সবাই বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে।
বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা সুমাইয়া ইসলাম বলেন, বৃষ্টির কারণে গাড়ি কম, যাত্রী বেশি। অফিসে দেরি হওয়ার ভয়ে বাধ্য হয়েই বেশি ভাড়া দিয়ে রিকশায় উঠেছি। সাধারণ মানুষের এই অসহায়ত্বের সুযোগ নেওয়া ঠিক নয়।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মী রেজাউল করিম বলেন, মোটরসাইকেল রাইডের ভাড়াও স্বাভাবিক দিনের তুলনায় অনেক বেশি দেখাচ্ছে। কয়েক কিলোমিটারের জন্যও অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে।
টানা বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়কে পানি উঠে জনভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে/ছবি-জাগো নিউজ
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির কারণে রিকশা ও অটোরিকশার সংখ্যা কমে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে যাত্রীদের। অন্যদিকে অনেক সড়কে পানি জমে থাকায় মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনের চলাচলও ধীর হয়ে পড়ে, সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রোববার (১২ জুলাই) নির্ধারিত সব পরীক্ষা এবং সব শ্রেণির পাঠদান স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
অফিসগামীদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা এলেই রাজধানীর একই চিত্র দেখা যায়। জলাবদ্ধতা, যানজট ও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ইএআর/এমআরএম








