‘কোন পথে বাংলাদেশ!? আইয়ামে জাহিলিয়াতকেও হার মানাচ্ছে, মানুষ কি করে এতো নিষ্ঠুর হয়!’—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পোস্টে ভিডিওটিকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনার ফুটেজ বলে দাবি করা হচ্ছে।
গত ৯ জুলাই ‘এসো ইসলামী সমাজ গড়ি’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে আলোচিত দাবিতে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। শেয়ার করা ভিডিওটি ১১ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ২৫ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে। এ ছাড়া ভিডিওটিতে প্রায় ৯ হাজার ৪০০ রিয়েকশন, ৯৩৯ কমেন্ট ও ১৮ হাজার শেয়ার রয়েছে। শেয়ার করা ভিডিওর কমেন্টে মিশ্র পতিক্রিয়া দেখা যায়।
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি লোহার দণ্ডসদৃশ একটি বস্তু হাতে প্রথমে একজনকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে বের করে দেন। এরপর এক নারীর ওপর হামলা চালান। নারীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে এক যুবকের ওপরও আক্রমণ করেন। দুজন মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরও ওই ব্যক্তি তাঁদের ওপর কয়েকবার আঘাত করে বাড়ি থেকে চলে যান। ভিডিওটির টাইমস্ট্যাম্পে ৩ জুলাই তারিখ উল্লেখ রয়েছে। তবে ফুটেজে শোনা কথোপকথনের ভাষা ও উচ্চারণও বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের বলে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়নি।
অনুসন্ধানে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কোনো গণমাধ্যম কিংবা কোনো সংবাদ সূত্রে এমন কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরে ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে অনুসন্ধানে ভারতের আসাম থেকে পরিচালিত ‘Barak Bangla Shongbad’ নামের একটি ফেসবুক পেজে এবং ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেল ‘Ishan Bangla News’-এ গত ৮ জুলাই শেয়ার করা হুবহু একই ভিডিও পাওয়া যায়। এসব পোস্ট থেকে জানা যায়, ঘটনাটি ভারতের আসাম রাজ্যের হাইলাকান্দি জেলার।
আরও নিশ্চিত হতে অনুসন্ধানে ভারতের আসাম ভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘Barak Bulletin’-এর একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। গত ৮ জুলাই ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৪ জুলাই (শনিবার) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আসামের হাইলাকান্দি শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গাবাড়ি এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জয় রাউতের ছোট ভাই অজয় রাউত (৪৮) মদ্যপ অবস্থায় ধারালো দা নিয়ে তাঁর ভাবি জবা রাউত ও ভাতিজা সাহিল রাউতের ওপর হামলা চালান। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অজয় প্রথমে তাঁর বড় ভাইকে বাড়ি থেকে তাড়া করে বের করে দেন এবং পরে ভাবি ও ভাতিজাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। গুরুতর আহত সাহিল রাউতকে স্থানীয় গ্রিন হিলস নার্সিং হোমের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) এবং জবা রাউতকে সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত অজয় রাউত পলাতক রয়েছেন, তাঁকে ধরতে হাইলাকান্দি পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
এ ছাড়া ভৌগোলিক তথ্য অনুযায়ী, হাইলাকান্দি নামে বাংলাদেশে কোনো এলাকা নেই, এটি ভারতের আসাম রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের বরাক উপত্যকার একটি জেলা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হামলার ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো ঘটনা নয়। মূলত, ভারতের আসাম রাজ্যের হাইলাকান্দি জেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে এক ব্যক্তির মদ্যপ অবস্থায় ভাবি ও ভাতিজাকে কোপানোর ফুটেজকে বাংলাদেশের ঘটনা দাবি করে ছড়ানো হচ্ছে।








