আধুনিক জ্ঞান, নৈতিক শিক্ষা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ একটি প্রজন্মই দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে উইটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (ডব্লিউআইএস) ও গাইডেন্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের (জিআইএস) হিফজ এবং এ লেভেল সমাবর্তন-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালাহউদ্দিন টুকু এসব কথা বলেন।
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা আধুনিক জ্ঞানের পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ হয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি শিক্ষার্থীদের সততা, নিষ্ঠা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে ভবিষ্যৎ জীবন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ১০০ হাফেজে কোরআন এবং এ লেভেলে কৃতিত্ব অর্জনকারী ৫ শিক্ষার্থীর হাতে সমাবর্তনের সনদ, সম্মাননা পদক ও স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডব্লিউআইএস ও জিআইএসে ১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী হিফজুল কোরআন বিভাগে পড়ছে। ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামিক শিক্ষার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠান দুটি একটি সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা করছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নূরউদ্দীন অপু, কবি ও সাহিত্যিক আনিসুল হক, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আয়াতুল ইসলাম, অক্সফোর্ড একিউএ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর শাহেন রেজা, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট বাংলাদেশের প্রধান সারওয়াত রেজা, পিয়ারসন এডএক্সেল বাংলাদেশের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক লিটন আব্দুল্লাহ এবং ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ব্যবসা উন্নয়ন পরিচালক তাহনী ইয়াসমিন। এ ছাড়া দেশের বিশিষ্ট আলেম, শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, অভিভাবকেরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের সমাবর্তন বক্তা ছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. এ এফ এম খালিদ হোসাইন। তিনি বলেন, কোরআনের শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে হিফজের প্রকৃত মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি শিক্ষার্থীদের কোরআনের আদর্শ অনুসরণ করে দেশ ও মানবকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে সাংস্কৃতিক পর্বে শিক্ষার্থীরা ইসলামিক নাশিদ,আবৃত্তি ও নাট্য পরিবেশনা উপস্থাপন করেন।
স্বাগত বক্তব্যে ডব্লিউআইএস ও জিআইএসের অধ্যক্ষ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ জামান বলেন, সমাবর্তন কেবল শিক্ষাজীবনের একটি আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি নয়, বরং নতুন দায়িত্ব গ্রহণের সূচনা। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য এমন শিক্ষার্থী গড়ে তোলা, যারা কোরআনের শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞানকে সমন্বিতভাবে ধারণ করবে।
তিনি সহিহ্ হাদিসের আলোকে হাফেজে কোরআনের মর্যাদা তুলে ধরে বলেন, কিয়ামতের দিন হাফেজে কোরআনের পিতা-মাতাকে নূরের মুকুট পরিয়ে সম্মানিত করা হবে। পাশাপাশি হাফেজদের ‘কোরআনের সঙ্গী’ হিসেবে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হবে।
সমাপনী বক্তব্যে অতিথি, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ডব্লিউআইএস ও জিআইএসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, ইসলামিক মূল্যবোধ ও নৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয়ে শিক্ষার্থী গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠান দুটি কাজ করে যাবে।








