বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। এতে দুই সাংবাদিককেও আসামি করা হয়েছে। এদিকে পুলিশের অভিযানে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘরবাড়ি ছেড়ে অনেকে আত্মগোপনে চলে গেছেন। ফলে কয়েকটি গ্রাম অনেকটা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, হামলার ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও সংবাদ সংগ্রহে থানা কম্পাউন্ডে যাওয়া দুই সংবাদকর্মীকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। আগৈলঝাড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা টিভির প্রতিনিধি নাজমুল রিপনকে ২১ নম্বর এবং প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তর প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামকে ২৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আসামিদের প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর এবং সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেন উদ্বেগ জানিয়েছে। তারা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এছাড়া ঘটনার সঠিক তদন্ত করতে তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে, সাংবাদিক নাজমুল রিপন জানান, প্রকাশিত সংবাদের জেরে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ খান তার (নাজমুল) বিরুদ্ধে একাধিক জিডি করেছেন। জিডি প্রত্যাহারের দাবিতে সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে মানববন্ধন করা হয়। সাইফুল জানান, এসব কারণে ওসি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাদের দুজনকে আসামি করেছেন। তিনি আরও দেশে না থাকা অনেক ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। এতে বাস্তব ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মাসুদ খান জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারী ও হামলা চালানোর ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একাধিক টিম তদন্ত করছে। কাউকে কোনো ধরনের হয়রানি করা হবে না। এজাহারে নির্দোষ ব্যক্তিদের নাম থাকলে অব্যাহতি দেওয়া হবে।

মামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ বলছে, আইন অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না। স্থানীয়রা জানান, গ্রেফতার আতঙ্কে অনেক পরিবারের পুরুষ সদস্য বাড়ি থাকছেন না। এতে উদ্বেগের মধ্যে নারী ও শিশুদের দিন কাটছে। প্রয়োজনীয় কাজেও অনেক পরিবার সমস্যায় পড়েছে। বুধবার রাতে একটি মামলার আসামি ফুলশ্রী গ্রামের সিদ্দিক ফকিরের ছেলে রিয়াজ ফকিরকে (২৬) গ্রেফতার করে পুলিশ। থানা হাজতের লোহার দরজায় নিজের মাথায় নিজেই আঘাত করে রিয়াজ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতাল ও পরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে তাকে পুলিশ ভর্তি করে। পুলিশের নির্যাতনে রিয়াজ মারা গেছে বলে পরদিন এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রিয়াজের বাবা-মা, বোনসহ আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী বৃহস্পতিবার বিকালে মিছিল নিয়ে থানায় ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় একাধিক পুলিশ সদস্যকে মারধর করে আহত করা হয়। এ ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে নারী-পুরুষসহ ২০ জনকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠায়।

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি জানান, আগৈলঝাড়া থানায় হামলার মামলায় যুগান্তরের আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামসহ দুই সাংবাদিককে আসামি করার প্রতিবাদে আগৈলঝাড়া প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে প্রেস ক্লাবের সভাপতি শামীমুল ইসলাম শামীমের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সরদার হারুন রানা, কেএম আজাদ রহমান, সহ-সভাপতি এইচএম মাসুম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীর বিশ্বাস ননী, সদস্য বরুন বাড়ৈ, মানিক হাওলাদার, স্বপন দাস প্রমুখ। তারা বলেন, হয়রানির উদ্দেশ্যে দুই সাংবাদিককে মামলায় জড়ানো হয়েছে।