২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নতুন ভিএআর আইনের প্রয়োগে লাল কার্ড দেখলেন একজন ফুটবলার। সুইজারল্যান্ডের স্ট্রাইকার ব্রিল এম্বোলোকে ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ বা ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার বিধান প্রয়োগ করে মাঠ থেকে বের করে দেন রেফারি। আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্তটি বৈধ হলেও এর প্রয়োগ ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বে।
কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের ৭১তম মিনিটে প্রথমে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে এম্বোলোর ওপর ফাউলের জন্য হলুদ কার্ড দেখান পর্তুগিজ রেফারি হোয়াও পিনেইরো। কিন্তু ভিএআরের পর্যালোচনার পর পুরো সিদ্ধান্ত বদলে যায়। পারেদেসের হলুদ কার্ড বাতিল করা হয়, আর এমবোলোকে ডাইভ দেওয়ার দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ম্যাচটি তখন ১-১ সমতায় ছিল। শেষ পর্যন্ত ১০ জনের সুইজারল্যান্ড অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হেরে বিদায় নেয়।
কী এই ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ আইন?
আন্তর্জাতিক ফুটবল আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’কে ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে এমন গুরুতর রেফারিং ভুল হিসেবে বিবেচনা করে।
আইন অনুযায়ী, রেফারি যদি ভুল খেলোয়াড়কে হলুদ বা লাল কার্ড দেখান, তাহলে ভিএআর সেই ভুল ধরিয়ে দিতে পারে এবং প্রকৃত অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া যায়।
২০২৬ বিশ্বকাপে এই বিধান আরও বিস্তৃতভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। ফলে রেফারি ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দিলে ভিএআর শুধু খেলোয়াড় পরিবর্তনই নয়, প্রয়োজনে অপরাধের ধরনও সংশোধন করতে পারে। এই আইনেই এমবোলোকে ডাইভ দেওয়ার দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
আইন বৈধ, বিতর্ক কেন?
বিতর্কটা আইনের অস্তিত্ব নিয়ে নয়, বরং আইনটি কিভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে। সুইজারল্যান্ড অধিনায়ক গ্রানিত জাকা ম্যাচ শেষে বলেন, ‘নিয়ম তো নিয়মই। কিন্তু আমার মতে, এই সিদ্ধান্ত ম্যাচটাকেই শেষ করে দিয়েছে।’
সুইজারল্যান্ডের কোচও নতুন এই নিয়ম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, ‘আমি জানি না এই নিয়ম কোথা থেকে এসেছে। তবে নিয়ম যেহেতু আছে, সেটি আমরা বদলাতে পারি না। এই পরিস্থিতিতে হলুদ কার্ড দেওয়ার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। এর আগে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ভিএআর হস্তক্ষেপ করা উচিত ছিল, কিন্তু করেনি। কোয়ার্টার ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই নিয়মের কোনো স্থান নেই। আমি বুঝতে পারছি না কেন রেফারিকে নিজের ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে, আর সেই কারণে আমাদেরই ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’
সাবেক ফিফা রেফারিরও প্রশ্ন
সাবেক ফিফা রেফারি ক্রিস্টিনা আনকেলও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, বিষয়টি কেবল ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
তিনি বলেন, ‘এমবোলোর সিদ্ধান্তটি আলমিরনের ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফিফা এটিকে মিসটেকেন আইডেন্টিটি হিসেবে দেখালেও বাস্তবে এটি ডাইভিংয়ের ঘটনায় ভিএআরের হস্তক্ষেপ। বিতর্কের জায়গা হলো, ভিএআর শুধু খেলোয়াড় বদলাচ্ছে না, অপরাধের ধরনও বদলে দিচ্ছে। আমরা ধীরে ধীরে এমন জায়গায় পৌঁছাচ্ছি, যেখানে ভিএআর ম্যাচের রেফারিংই নতুন করে করে দিচ্ছে।’
আগে হয়েছিল আলমিরনের ক্ষেত্রেও
আনকেলের দাবি, একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের ম্যাচেও। সেখানেও প্রথমে একজনকে ফাউলের জন্য কার্ড দেখানো হয়েছিল। পরে ভিএআরের হস্তক্ষেপে সিদ্ধান্ত পাল্টে ডাইভ দেওয়া খেলোয়াড়কেই শাস্তি দেওয়া হয়। এই দুই ঘটনার মিল নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে।
কান্নায় ভেঙে পড়েন এমবোলো
লাল কার্ড দেখার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন ব্রিল এমবোলো। সতীর্থরা তাঁকে জড়িয়ে সান্ত্বনা দেন। তবে ম্যাচে ১০ জন নিয়ে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে আর আটকাতে পারেনি সুইজারল্যান্ড।
হুলিয়ান আলভারেজ ও লাওতারো মার্টিনেজ অতিরিক্ত সময়ে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ৩-১ ব্যবধানে জিতিয়ে সেমিফাইনালে তুলে দেন।
এসকেডি/আইএইচএস







