নরওয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা জুদ বেলিংহ্যাম। তার এই জোড়া গোলেই আরলিং হালান্ডদের ২-১ ব্যবধানে বিদায় করে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নাম লিখলো ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার।
এমন নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পর বেলিংহ্যাম জানিয়েছেন, ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে পারার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তার মা ডেনিস বেলিংহ্যাম। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে জয় এনে দিলেও, তার সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল হলুদ কার্ড এড়িয়ে নিজেকে পরের ম্যাচের জন্য উপযুক্ত রাখা।
নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে নামার আগে বেলিংহ্যাম জানতেন, আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলেই পরের ম্যাচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষিদ্ধ হয়ে যাবেন। তবে ফ্লোরিডার প্রচণ্ড গরম ও উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচেও তিনি কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই খেলা শেষ করেন। আর এর পুরো কৃতিত্ব তিনি দিয়েছেন মায়ের এক সপ্তাহের পরামর্শকে।
ম্যাচ শেষে বেলিংহ্যাম বলেন, ‘সারা সপ্তাহ মা আমাকে বলে গেছেন, ভাষার দিকে খেয়াল রাখতে, ট্যাকলের দিকে খেয়াল রাখতে, মুখের অভিব্যক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে, আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে। তিনি পুরো সপ্তাহজুড়ে আমাকে হলুদ কার্ড নিয়ে সতর্ক করেছেন। সত্যি বলতে, আপনি যদি সঠিকভাবে খেলেন এবং রেফারিও যদি সম্মানজনকভাবে কথা বলার সুযোগ দেন, তাহলে বিষয়টা সহজ হয়ে যায়। অনেক রেফারি সেটা করতে দেন না। তাই আমি যখন ভারসাম্য বজায় রাখতে পারি এবং রেফারি শুনতে আগ্রহী থাকেন, তখন খেলাটা অনেক সহজ হয়। শেষ পর্যন্ত এটি ছিল দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি ম্যাচ, আর সৌভাগ্যবশত আমি কোনো কার্ড ছাড়াই শেষ করতে পেরেছি।’
শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি বেলিংহ্যাম মাঠেও ছিলেন ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ভরসা। নরওয়ের বিপক্ষে করা জোড়া গোলে চলতি বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ছয়ে, যা অধিনায়ক হ্যারি কেইনের সমান। এতে তিনি গোল্ডেন বলের অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠেছেন। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় কিলিয়ান এমবাপে ও লিওনেল মেসির চেয়ে মাত্র দুই গোল পিছিয়ে রয়েছেন।
সাবেক বার্মিংহ্যাম সিটির এই তারকা স্বীকার করেছেন, নিজের বর্তমান পারফরম্যান্স যেন স্বপ্নেরও বাইরে। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, হয়তো স্বপ্নের চেয়েও বেশি। আমি আত্মবিশ্বাসী একজন মানুষ, কিন্তু রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এমন ম্যাচের স্বপ্নও দেখি না। দলের জন্য অবদান রাখতে পারাটা দারুণ অনুভূতি। তবে আমার সতীর্থদের পরিশ্রম ছিল অসাধারণ। যেকোনো পরিস্থিতিতেই তারা যেভাবে লড়াই চালিয়ে যায়, তা নিয়ে আমি ভীষণ গর্বিত।’
বেলিংহ্যামের মতে, মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ ষোলোর জয়ের সঙ্গে নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের কিছু মিল থাকলেও, এবার দলের মানসিক দৃঢ়তাই সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। এখন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইংল্যান্ড।
আরএএইচইউএল/আইএইচএস








