ফুটবলে হলুদ ও লাল কার্ড প্রবর্তনের পেছনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন যে আর্জেন্টাইন ফুটবলার, সেই আন্তোনিও রাত্তিন মারা গেছেন। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার প্রতিবাদী আচরণই পরে ফুটবলে হলুদ ও লাল কার্ড চালুর অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।
শনিবার আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) জানায়, বুয়েন্স আয়ার্সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন রাত্তিন। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ‘বোকা জুনিয়র্স ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ইতিহাসের এক প্রতীককে হারিয়ে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’
আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি দুটি বিশ্বকাপে খেলেছিলেন। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডের খেলোয়াড় রাত্তিন ছিলেন শক্তিশালী ট্যাকল ও শারীরিক ফুটবলের জন্য পরিচিত। বোকা জুনিয়র্সের হয়ে তিনি ছয়টি আর্জেন্টাইন লিগ শিরোপা জিতেছিলেন এবং ১৯৬৩ সালে কোপা লিবার্তাদোরেসে রানার্সআপ হয়েছিলেন।
রাত্তিনকে স্মরণ করে বোকা জুনিয়র্স জানায়, ‘তিনি ছিলেন আমাদেরই একজন। ১৪ বছরের পুরো ক্যারিয়ারে এই একটিই জার্সি তিনি রক্ষা করেছেন। তিনি ছিলেন একজন নেতা, একজন আর্জেন্টাইন এবং চিরকালীন বস্তেরো (বোকা জুনিয়র্স ফুটবল ক্লাবের একজন সমর্থক)।’
আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি ১৯৬২ সালের চিলি বিশ্বকাপ এবং ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে অংশ নেন। এছাড়া দুইবার কোপা আমেরিকার রানার্সআপও হয়েছিলেন।
১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে একটি ফাউলের প্রতিবাদ করায় ‘মৌখিক অসদাচরণের’ অভিযোগে রাত্তিনকে মাঠ থেকে বের করে দেন রেফারি। ওই সময় ফুটবলে হলুদ বা লাল কার্ডের প্রচলন ছিল না। রেফারিরা শুধু মৌখিকভাবে খেলোয়াড়কে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিতেন।
মাঠ ছাড়ার সময় রাগে কর্নার ফ্ল্যাগটি মুচড়ে ফেলেন রাত্তিন, যেখানে ইংল্যান্ডের পতাকার নকশা ছিল। এরপর তিনি প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের জন্য সংরক্ষিত লাল কার্পেটের ওপর গিয়ে বসে পড়েন। তার এই দুই প্রতিবাদী কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে গ্যালারির দর্শকেরা তার দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুঁড়ে মারতে শুরু করেন।
এই বিভ্রান্তিকর ঘটনার পর, আর ফুটবলে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায়, ফিফার রেফারিং কর্তৃপক্ষ উপলব্ধি করে যে সতর্কবার্তা ও বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য সবার কাছে সহজে বোধগম্য একটি পদ্ধতি প্রয়োজন।
ফিফার রেফারিং কমিটির প্রধান কেনেথ জর্জ অ্যাস্টন সড়কের ট্রাফিক সিগন্যাল থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৬৭ সালে হলুদ ও লাল কার্ড প্রবর্তন করেন, যা আজও বিশ্ব ফুটবলে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ওয়েম্বলিতে রাত্তিনের সেই প্রতিবাদী আচরণকে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ফুটবল বৈরিতার সূচনাও ধরা হয়। যার সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় রচিত হয় ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। সেদিন দিয়েগো ম্যারাডোনার দুটি অবিস্মরণীয় গোলে ইংল্যান্ডকে হারায় আর্জেন্টিনা।
একটি গোল ছিল ‘হাত দিয়ে করা’। যে গোলটি হাত দিয়ে করলেও রেফারির চোখ এড়িয়ে যায়। আর অন্যটি ছিল একক নৈপুণ্যে করা ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল। যাকে বলা হয় গোল অব দ্য সেঞ্চুরি।
২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ১টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেন্জ স্টেডিয়ামে আবারও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে চলেছে আর্জেন্টিনা। ওই ম্যাচের দু’দিন আগেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথের জন্ম দেওয়া রাত্তিন।
আরএএইচইউএল/আইএইচএস/








