বর্ষা এলেই চারপাশে কাদা। শহুরে জীবনে কাদা মানেই অনেকের কাছে বিরক্তির কারণ। কিন্তু এই কাদাই যে শরীর ও মনের জন্য কিছু ইতিবাচক উপকার বয়ে আনতে পারে, তা হয়তো অনেকেরই জানা নেই। প্রতি বছর ২৯ জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক কাদা দিবস । প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সংযোগ বাড়ানো এবং বিশেষ করে শিশুদের কাদা নিয়ে খেলতে উৎসাহিত করাই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিষ্কার ও নিরাপদ পরিবেশের মাটি বা কাদার সংস্পর্শে আসা মানুষের মানসিক সুস্থতা, শরীরচর্চা এবং প্রকৃতির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।
প্রকৃতির সংস্পর্শে মানসিক চাপ কমতে পারে
কাদা বা মাটিতে খালি পায়ে হাঁটা অনেকেই ‘গ্রাউন্ডিং’ বা ‘আর্থিং’ নামে চেনেন। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মাটির সরাসরি সংস্পর্শ শরীরকে শিথিল করতে, মানসিক চাপ কমাতে এবং ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটালে উদ্বেগ ও মানসিক ক্লান্তিও কিছুটা কমতে পারে। তবে গবেষকরা বলছেন, এ বিষয়ে আরও বড় পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন।
পায়ের পেশির ব্যায়াম হয়
কাদার ওপর হাঁটা সমতল রাস্তার তুলনায় কিছুটা কঠিন। ফলে পায়ের ছোট ছোট পেশি, গোড়ালি এবং ভারসাম্য রক্ষাকারী পেশিগুলো বেশি কাজ করে। এতে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বাড়তে পারে। অনেক ফিজিওথেরাপিস্টও অসমতল প্রাকৃতিক ভূমিতে হাঁটার উপকারিতার কথা উল্লেখ করেন।
মনোযোগ ও সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করে
কাদায় হাঁটার সময় প্রতিটি পদক্ষেপ সাবধানে ফেলতে হয়। এতে স্বাভাবিকভাবেই মনোযোগ বর্তমান মুহূর্তে কেন্দ্রীভূত থাকে। মনোবিজ্ঞানীরা একে 'মাইন্ডফুলনেস' চর্চার একটি সহজ উপায় হিসেবে দেখেন। প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটানো উদ্বেগ ও মানসিক ক্লান্তি কমাতেও সহায়ক হতে পারে।
প্রদাহ কমার সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে
কিছু গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, মাটির সঙ্গে শরীরের সংযোগ শরীরের প্রদাহজনিত কিছু সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে এবং ব্যথা কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব ফলাফল এখনও প্রাথমিক পর্যায়ের এবং এগুলোকে নিশ্চিত চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে ধরা হয় না।
প্রকৃতির জীববৈচিত্র্যের সংস্পর্শে আসা
মাটিতে অসংখ্য উপকারী অণুজীব বাস করে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় পরিবেশে সময় কাটানো মানুষের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ও মানসিক সুস্থতার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে যেকোনো কাদা নিরাপদ। দূষিত বা নোংরা কাদায় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী ও রাসায়নিক থাকতে পারে।
আরও পড়ুন
অনিদ্রা দূর করতে ঘুমানোর আগে ১০ মিনিট যা করবেন
শিশুদের জন্যও শেখার সুযোগ
আন্তর্জাতিক কাদা দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শিশুদের প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত করা। কাদা নিয়ে খেললে তাদের কল্পনাশক্তি, সৃজনশীলতা এবং সংবেদনশীল দক্ষতার বিকাশে সহায়তা হতে পারে। পাশাপাশি তারা প্রকৃতি, মাটি ও পরিবেশ সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পায়।
খেয়াল রাখবেন যেসব বিষয়
কাদায় হাঁটার আগে জায়গাটি নিরাপদ কি না নিশ্চিত করুন। নর্দমা, দূষিত পানি বা শিল্পবর্জ্য মিশ্রিত কাদায় কখনোই হাঁটবেন না। পায়ে কাটা বা ক্ষত থাকলে খালি পায়ে কাদায় নামা উচিত নয়। হাঁটার পর অবশ্যই সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে পা ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
আরও পড়ুন
বজ্রপাতের সময় যেসব ভুল জীবন কেড়ে নিতে পারে
প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার আনন্দের সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিরাপদ পরিবেশে কাদার স্পর্শ উপভোগ করুন। তবে এটিকে কোনো চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর একটি স্বাস্থ্যকর অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখুন।
সূত্র: বিবিসি, ইন্ডিয়া টুডে ও অন্যান্য
এসএকেওয়াই








