সিলেট নগরীতে কয়েক দিন ধরে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নগরবাসী। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বলছে, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় গত তিন-চারদিন ধরে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে দিনে ও রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ যাচ্ছে। অনেক সময় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পর আবার এক ঘণ্টা থাকে না। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। 

সিলেট নগরীর আম্বরখানার একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হেলাল উদ্দিন বলেন, “অফিস সময়ের আট ঘণ্টার মধ্যে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যায়। এক ঘণ্টা থাকলে পরের ঘণ্টায় থাকে না। এতে ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে।”

বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা জাহিদ আহমেদ বলেন, “রবিবার রাত ১২টার দিকে সন্তানকে নিয়ে ঘুমাতে যাওয়ার পরই বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর আসে। এই সময়টাতে আমার ছোট শিশুকে নিয়ে খুব কষ্ট করতে হয়েছে।”

ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বাসাবাড়ির পাশাপাশি দোকানপাট, ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অফিসের কাজেও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। অনলাইনে কাজ করা ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরাও সমস্যায় পড়ছেন। এ অবস্থায় দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।

নগরীর মজুমদারী এলাকার নিত্যপণ্য বিক্রেতা শাকিল আহমেদ বলেন, “ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ফ্রিজে রাখা পণ্য নষ্ট হচ্ছে। ফ্রিজ দুটির সমস্যা হয় কিনা সে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। বিদ্যুতের বিল সরকার দুইবার বৃদ্ধি করছে, তারপরও কেন এতো লোডশেডিং। জনগণের টাকাও যাচ্ছে সাথে ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে এটি সরকারের কেমন সমাধান।”

সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন জানান, বিদ্যুতের চাহিদা বেশি হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। 

তিনি বলেন, “রবিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পিডিবির আওতাধীন সিলেট এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২৩২ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া গেছে ১৪৮ মেগাওয়াট। ফলে ৮৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।”

পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি তিনি। প্রধান প্রকৌশলী বলেন, “পরিস্থিতির উন্নতি পুরোপুরি বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর নির্ভর করছে। উৎপাদন বাড়লে সরবরাহও স্বাভাবিক হবে। ঠিক কবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।”