সৌন্দর্যচর্চায় মাটি বা কাদার ব্যবহার নতুন নয়। প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন সভ্যতায় ত্বক পরিষ্কার, উজ্জ্বল ও সতেজ রাখতে নানা ধরনের প্রাকৃতিক কাদা ব্যবহার করা হয়ে আসছে। আধুনিক স্কিনকেয়ারেও সেই ঐতিহ্য বজায় রয়েছে। বর্তমানে মুলতানি মাটি, বেন্টোনাইট ক্লে, কাওলিন ক্লে, ডেড সি মাড ও গ্রিন টি ক্লে মাস্ক ত্বকের যত্নে বেশ জনপ্রিয়। তবে সব ধরনের ক্লে সব ত্বকের জন্য উপযুক্ত নয়। তাই ত্বকের ধরন বুঝে সঠিক ক্লে বেছে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মুলতানি মাটি

মুলতানি মাটি সবচেয়ে পরিচিত প্রাকৃতিক ক্লেগুলোর একটি। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে, লোমকূপের ভেতরে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে এবং ব্রণ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ত্বকের নিস্তেজ ভাব দূর করে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতেও এটি কার্যকর।

রোদের কারণে ত্বকে পিগমেন্টেশন বা কালচে দাগ দেখা দিলে মুলতানি মাটির সঙ্গে নারকেলের পানি মিশিয়ে ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। অ্যালার্জি বা সামান্য ত্বকের জ্বালাপোড়ায় গোলাপজলের সঙ্গে মিশিয়েও এটি ব্যবহার করা হয়। তবে যাদের ত্বক শুষ্ক, তাদের সপ্তাহে একবারের বেশি ব্যবহার না করাই ভালো।

jago

বেন্টোনাইট ক্লে

বেন্টোনাইট ক্লে মূলত তৈলাক্ত ও ব্রণ-প্রবণ ত্বকের জন্য উপযোগী। এটি ত্বকের রোমকূপের গভীরে জমে থাকা অতিরিক্ত তেল, ময়লা ও দূষণের কণা শোষণ করে ত্বককে পরিষ্কার রাখে। এর প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য ব্রণ কমাতে সহায়ক এবং নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণের দাগও কিছুটা হালকা হতে পারে।

তবে এই ক্লে ত্বককে কিছুটা শুষ্ক করে দিতে পারে। তাই এটি ব্যবহার করার সময় সাধারণ পানির পরিবর্তে মধু, দই বা অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে।

কাওলিন ক্লে

কাওলিন ক্লে বা সাদামাটি সংবেদনশীল ত্বকের জন্য সবচেয়ে মৃদু ক্লেগুলোর একটি। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করলেও ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক করে না। পাশাপাশি লোমকূপ পরিষ্কার করে, মৃত কোষ দূর করে এবং ত্বকের লালচে ভাব ও ব্রণের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

jago

ডেড সি মাড

ডেড সি মাডে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম ও আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। এটি ত্বকের গভীরে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে, অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে এবং ত্বককে সতেজ ও উজ্জ্বল দেখাতে সাহায্য করে। স্পা ট্রিটমেন্টেও এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ডেড সি মাড সোরিয়াসিসের মতো কিছু ত্বকের সমস্যার উপসর্গ কমাতে এবং পেশির টান ও জয়েন্টের অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি কোনো চিকিৎসার বিকল্প নয়।

গ্রিন টি ক্লে

গ্রিন টি নির্যাস ও প্রাকৃতিক ক্লের সমন্বয়ে তৈরি গ্রিন টি ক্লে মাস্ক বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। এটি অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে, লোমকূপ গভীরভাবে পরিষ্কার করে এবং ব্ল্যাকহেডস ও ব্রণের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। গ্রিন টি-তে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে সতেজ, কোমল ও উজ্জ্বল রাখতেও ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুন

ব্রণের দাগ দূর করতে ভরসা রাখুন প্রাকৃতিক উপাদানে

ব্যবহারের নিয়ম

ক্লে মাস্ক ব্যবহারের আগে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন। এরপর ক্লের গুঁড়ার সঙ্গে গোলাপ জল, সাধারণ পানি বা ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য উপাদান মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। চোখের চারপাশ বাদ দিয়ে পুরো মুখ ও গলায় লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখুন। পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার আগেই কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর অবশ্যই একটি ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

আরও পড়ুন

যেসব কারণে লাল লিপস্টিক পরলে নারীকে আত্মবিশ্বাসী লাগে

সর্তকতা

ডার্মাটোলজিস্টদের মতে, শুষ্ক ত্বকে অতিরিক্ত ক্লে মাস্ক ব্যবহার করলে ত্বক আরও রুক্ষ হয়ে যেতে পারে। তাই সপ্তাহে এক থেকে দুইবারের বেশি ব্যবহার না করাই ভালো। প্রথমবার ব্যবহারের আগে কানের পেছনে বা হাতে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া উচিত। কোনো ধরনের জ্বালাপোড়া, র‍্যাশ বা অ্যালার্জি দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সঠিক ক্লে নির্বাচন এবং নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বককে পরিষ্কার, সতেজ ও উজ্জ্বল রাখা সম্ভব।

সূত্র: ভোগ ইন্ডিয়া, হেলথ লাইন, বি বিউটিফুল ও অন্যান্য

এসএকেওয়াই