আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে পুরোদমে প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যালট বাক্স, প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত রয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনে খরচ বা বাজেট কিছুটা কমানো যায় কি না, তা নিয়েও ভাবছে এই সাংবিধানিক সংস্থাটি।রোববার (২৮ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বেলা ১১টা থেকে বিকেল পৌনে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই বৈঠকে অংশ নেন।বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, "স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে অক্টোবরকে লক্ষ্য ধরে ইসির কাজ এগোচ্ছে। আর অক্টোবরে নির্বাচন হলে এর ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে।"তিনি আরও জানান, দেশের প্রায় ৪ হাজার ৫০০টি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন কীভাবে ধাপে ধাপে আয়োজন করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এবারের স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো হবে সম্পূর্ণ নির্দলীয়। অর্থাৎ, নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীকের ব্যবহার থাকছে না।দলীয় প্রতীক না থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, "রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে। কাজেই নির্দলীয় নির্বাচনেও পরোক্ষভাবে তারা যুক্ত থাকবেই। এই কারণে তাদের কাছে খসড়া আচরণ বিধিমালা নিয়ে মতামত জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।"জাতীয় নির্বাচনের পরপরই এই নির্বাচন হওয়ায় ব্যালট বাক্সসহ সব নির্বাচনী সরঞ্জাম প্রস্তুত রয়েছে। তবে ভোটগ্রহণের আনুষঙ্গিক ব্যয় যথাসম্ভব কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনাররা।বিগত নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষের সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে।বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দায়িত্বে যুক্ত করার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, তবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।স্থানীয় সরকারের পৃথক পাঁচ ধরনের নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে একটি খসড়া আচরণ বিধিমালা ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এই বিষয়ে মতামত দিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।ইসি জানিয়েছে, রাজনৈতিক দল, সাংবাদিকসহ অংশীজনদের কাছ থেকে মতামত পাওয়ার পর সাধারণত ১৫ দিনের মধ্যে এটি চূড়ান্ত করা হয়। সবার গ্রহণযোগ্য মতামত বিবেচনা করে খসড়া আচরণ বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন করা হবে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা না করে কমিশন এককভাবে কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেবে না বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে।
রাজনীতি
অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি

শেয়ার করুন







