ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ভূমি অফিসে অভিযান চালিয়ে দালালির অভিযোগে আটক ব্যক্তিকে বাঁচাতে ম্যাজিস্ট্রেটকে এনসিপি নেতার ফোনের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকাল ৪টার দিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান। এ সময় মিলন নামে এক কম্পিউটার ব্যবসায়ীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরদিন মিলনকে ছাড়িয়ে নিতে উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক আব্দুল জলিল উপজেলা সহকারী কমিশনারকে ফোন দেন। ফোনের অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে সাজা মওকুফের তদ্বির এবং সর্বশেষ ‘এমপিকে বলি’ সংক্রান্ত মন্তব্যকে ঘিরে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।
আদালত ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পৌরসভার কুসুমদী গ্রামের বাসিন্দা মিলন দীর্ঘদিন ধরে আলফাডাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের বাইরে কম্পিউটারের দোকান পরিচালনার আড়ালে জমির নামজারি, খাজনা ও অন্যান্য সেবার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন। দিনে একাধিকবার ভূমি অফিসে তার সন্দেহজনক যাতায়াতের কারণে এর আগেও তাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়। তবে সেই সতর্কতা উপেক্ষা করে আগের মতোই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
পরে অভিযানকালে মিলন দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি নিজেই অপরাধ স্বীকার করেন। এছাড়া তার প্রতিষ্ঠানে কোনো সেবামূল্য তালিকা প্রকাশ্যে ঝুলানো ছিল না। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৩৯ ধারা অনুযায়ী মিলনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে ছড়িয়ে পড়া অডিও কথোপকথনে শোনা যায়, আব্দুল জলিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বলছেন, “মিলন আমাদের দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। তাকে একবার শুধরে নেওয়ার সুযোগ দিন।” তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে এই তদ্বির মানতে অপারগতা প্রকাশ করলে, ফোনের অপর প্রান্ত থেকে আব্দুল জলিলকে বলতে শোনা যায়, “ঠিক আছে, এমপি স্যারকে বলি।”
এ প্রসঙ্গে জানতে আব্দুল জলিলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে বলেন, “আমাদের দলের এক নেতার আটকের বিষয়টি জানতে পেরে এসিল্যান্ড স্যারকে ফোন দিয়েছিলাম। পরে বিস্তারিত জানতে পেরে আর কোনো তদ্বির করিনি, বরং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাই বলেছি।”
এদিকে রাজনৈতিক নেতার এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব। ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর বলেন, “যে কোনো ধরনের অপরাধ বা অপরাধীর পক্ষে সুপারিশ করা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও আইন পরিপন্থী। যদি তদন্তে এমন সুপারিশের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”








