ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় গত জুন মাসে স্পেনে যান ইউসুফ হাসান আলিফ (২৭)। সেখানে ফুড রাইডার হিসেবে কাজ করে নিজেকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছিলেন। অথচ ভাগ্যের এমনই নির্মম পরিহাস, কাজের জন্য গ্যারেজ থেকে সাইকেল বের করতে গেলে বৈদ্যুতিক বাইসাইকেলের ব্যাটারি বিস্ফোরণে বিদেশ বিভূঁইয়ে প্রাণ গেল বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলের।

মৃত্যুর আগে সহকর্মীদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠানো আকুতি, ‘আমাদের বাঁচান ভাই, দম বন্ধ হয়ে আসছে।’ শুনতে পেল না কেউ। গত রোববার সন্ধ্যায় এ ঘটনায় তাঁর দুই সহকর্মীও গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন।

নিহত ইউসুফ হাসান আলিফ গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার উত্তরগাঁও এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবা আব্দুল মোতালিব ও মা রহিমা খাতুন। নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা জানায়, বৈধভাবে বসবাসের জন্য দেশটির নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন ইউসুফ। মৃত্যুর মাত্র দুই দিন আগে তিনি কাজের অনুমতি পান।

বার্সেলোনাপ্রবাসী ও ইউসুফের মামাতো ভাই শফিকুল ইসলাম রাসেল জানান, গত রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটের দিকে মাদ্রিদের আরগানসুয়েলা এলাকার মেট্রো পালোস দে লা ফ্রন্তেরা অংশের কায়ে কানারিয়াস সড়কের একটি বাইসাইকেল গ্যারেজে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

শফিকুল ইসলাম রাসেল বলেন, প্রতিদিনের মতো ফুড ডেলিভারির কাজে ব্যবহৃত সাইকেল নিতে গ্যারেজে গিয়েছিলেন ইউসুফ। গ্যারেজে ঢোকার পরপরই একটি বৈদ্যুতিক বাইসাইকেলের ব্যাটারি বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো গ্যারেজে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ইউসুফ ও তাঁর দুই সহকর্মী গুরুতর দগ্ধ হন।

রাসেল জানান, আগুন লাগার পর ইউসুফ সহকর্মীদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বাঁচার আকুতি জানিয়ে শেষ বার্তা পাঠান। বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, ‘আমাদের বাঁচান ভাই, দম বন্ধ হয়ে আসছে।’ বিষাক্ত ধোঁয়া ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনে তাঁকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

মাদ্রিদ সিটি কাউন্সিলের ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে গ্যারেজে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস অপসারণ করা হয়। নতুন করে আগুন লাগার ঝুঁকি এড়াতে ভেতরে থাকা অন্য বৈদ্যুতিক বাইসাইকেলগুলো বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়।

চিকিৎসকেরা ঘটনাস্থলেই ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন। দগ্ধ অন্য দুই সহকর্মীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। ইউসুফের মৃত্যুতে কালীগঞ্জ পৌরসভার উত্তরগাঁও এলাকায় এবং স্পেনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে।