বাংলাদেশে এক হিন্দু নারী শিক্ষকের ওপর ইসলামপন্থীরা হামলা করেছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

‘Vikas Pokhariyal’ নামের একটি ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ৩১ আগস্ট সকাল ১০টায় ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। প্রচারিত ভিডিওটিতে প্রায় ৫ হাজার রিয়েকশন, ২৮৭ কমেন্ট ও ২ হাজার ২০০ রিপোস্ট রয়েছে।

প্রচারিত দাবিটির সত্যতা যাচাই করতে দেশে কোনো হিন্দু নারী শিক্ষকের ওপর হামলা বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড নিয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়। তবে অনুসন্ধানে দেশীয় কোনো মূলধারার গণমাধ্যমে আলোচিত দাবির পক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরে ভিডিওর কিছু কি-ফ্রেম নিয়ে অনুসন্ধানে জাতীয় দৈনিক ‘কালবেলা’র ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিওর সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওর মিল পাওয়া যায়।

বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে জাতীয় দৈনিক ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এ ‘পুলিশের সামনে নারীকে লাথি দেওয়ার ভিডিও নিয়ে যা জানা গেল’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। গতকাল রোববার (৩০ আগস্ট) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘটনাটি কোনো হিন্দু শিক্ষকের ওপর হামলার নয়; বরং রাজবাড়ী সদর উপজেলার কাপড় বাজারে অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক কোন্দলকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনা এবং এক নারী ব্যবসায়ীকে লাঞ্ছিত করার।

প্রতিবেদনে ঘটনার বিবরণে রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ জানান, রাজবাড়ীর কাপড় বাজারের ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ নামের প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী জাকিয়া সুলতানা নামের এক নারী ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাঁর সাবেক কর্মচারী শাহানা পারভীন বৃষ্টির হিসাব-নিকাশ ও আলাদা দোকান দেওয়া নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জাকিয়া সুলতানার চরম বাগবিতণ্ডা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩০ আগস্ট জাকিয়া সুলতানা কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাজারে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করলে ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ব্যবসায়ীরা তাঁকে ধাওয়া করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে হেফাজতে নেয়। পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যাওয়ার সময়েই উত্তেজনার সুযোগে কয়েকজন যুবক জাকিয়া সুলতানাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

এ ছাড়া, প্রচারিত অ্যাকাউন্টটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এটি ভারত থেকে পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে হিন্দু নারী শিক্ষককে ইসলামপন্থীদের হামলার দাবিটি ভিত্তিহীন। মূলত রাজবাড়ীতে ব্যবসায়িক অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে এক নারী ব্যবসায়ীকে লাঞ্ছিত করার ঘটনাকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।