বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আজ ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামছে এশিয়ান পরাশক্তি জাপান। ‘আন্ডারডগ’ ধরা হলেও সামুরাই ব্লু-দের হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বড় বড় জায়ান্টের বিপক্ষে যেভাবে তারা চমক দেখিয়েছে, তাতে যেকোনো পরাশক্তির জন্যই জাপান এখন এক কঠিন প্রতিপক্ষ।
পরিসংখ্যান ও ইতিহাস জাপানের এই উত্থানের কথাই বলে। বর্তমানে ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে জাপান ১৭তম অবস্থানে রয়েছে। তবে একসময় সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিং ছিল নবম, যা তাদের ইতিহাসের সেরা অবস্থান। ২০১৮ বিশ্বকাপের সেই নাটকীয় ম্যাচের কথা ফুটবলপ্রেমীদের আজীবন মনে থাকবে, যেখানে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ মুহূর্তের থ্রিলারে ৩-২ ব্যবধানে হেরেছিল জাপান। আর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে তারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল।
চলমান ফিফা বিশ্বকাপেও জাপান তাদের সেই জায়ান্ট-কিলিং রূপ ধরে রেখেছে। টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করাকে তাদের বড় ইতিবাচক ফল হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া এবং সুইডেনের সঙ্গে ১-১ ড্র করে রাউন্ড অব ৩২–এ ওঠার মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে।
আজকের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে পরীক্ষায় ফেলতে বিশেষভাবে নজরে রাখতে হবে জাপানের চার তারকাকে। তাকেফুসা কুবো, রিৎসু দোয়ান, জুনিয়া ইতো ও দাইচি কামাদা। এদের যেকোনো একজন নিজের দিনে থাকলে ব্রাজিলের মতো বড় দলকেও অনায়াসে চাপে ফেলে দিতে পারে। বিশেষ করে কুবোর গতি এবং দোয়ানের বড় ম্যাচে গোল করার ক্ষমতা জাপানের মূল অস্ত্র।
অন্যদিকে এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের স্কোয়াডে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা জাপান কাজে লাগাতে পারে। প্রথমত, ব্রাজিলের ডিফেন্সিভ ট্রানজিশন বা আক্রমণ থেকে রক্ষণে ফেরার গতিতে কিছুটা ধীরভাব লক্ষ করা গেছে। তাদের ফুলব্যাকরা যখন আক্রমণে ওপরে উঠে যায়, তখন পেছনে বড় ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। জাপান যদি তাদের চেনা দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক বা প্রতি-আক্রমণের কৌশল খাটাতে পারে, তবে ব্রাজিলের এই অরক্ষিত ডিফেন্স ভেঙে ফেলা সহজ হবে।
ফুটবল আর বন্ধুত্ব—তোর টিমে, তোর পাশেদ্বিতীয়ত, ব্রাজিলের মাঝমাঠের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং সৃজনশীলতার অভাব এবার চোখে পড়ার মতো। মাঝমাঠ থেকে বলের জোগান আটকে দিয়ে ব্রাজিলের উইঙ্গারদের ওপর হাইপ্রেশার ধরে রাখতে পারলে তাদের চেনা ছন্দ পুরোপুরি নষ্ট করা সম্ভব। এ ছাড়া সেট-পিস (কর্নার বা ফ্রি-কিক) ডিফেন্ড করার ক্ষেত্রেও ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডারদের কিছুটা অমনোযোগিতা এবং পজিশনিংয়ের ভুল ধরা পড়েছে, যেখানে জাপান বেশ কার্যকর হতে পারে।
শেষ বড় দুর্বলতা হলো, ব্রাজিলের প্ল্যান-বি বা বিকল্প কৌশলের অভাব। ম্যাচ যদি তাদের মনমতো না চলে বা শুরুতে তারা গোল খেয়ে বসে, তবে দ্রুত ম্যাচের কৌশল বদলে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে দলটিকে বেশ সংগ্রাম করতে দেখা যাচ্ছে। আজকের ম্যাচে জাপান যদি এই ট্যাকটিকসগুলো সফলভাবে মাঠে প্রয়োগ করতে পারে এবং প্রথম ধাক্কাটা দিতে পারে, তবে আরও একটি বড় অঘটন ঘটলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
লেখক - কর্মকর্তা, ভূমি মন্ত্রণালয়








