আর্জেন্টিনা দল রীতিমতো উড়ছে। ২০২১ কোপা আমেরিকা জিতে মেজর টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের মাধ্যমে ২৮ বছরের খরা কাটানোর পর এখন চ্যাম্পিয়ন হওয়া আর্জেন্টিনার জন্য ‘ডালভাত।’ সবশেষ পাঁচ বছরে দলটি জিতেছে চার শিরোপা। আর্জেন্টিনার এমন সফলতা দেখে অনেকে তাঁদের ঈর্ষা করেন বলে মনে করেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।

২০২১ কোপা আমেরিকা জয়ের পর আর্জেন্টিনা ২০২২ সালে জিতেছে বিশ্বকাপ ও ফিনালিসিমার শিরোপা। যে বিশ্বকাপের জন্য আলবিসেলেস্তেরা ৩৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ছিল, সাড়ে তিন বছর আগে কাতারে সেই অপেক্ষা ফুরিয়েছে। লিওনেল মেসিরও পূর্ণ হয়েছে আজন্মলালিত স্বপ্ন। এই মেসি-স্কালোনি জুটি ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপাও ধরা রেখেছেন।

এবার বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখতে আর্জেন্টিনার দরকার কেবল তিন জয়। আগামীকাল কানসাস সিটিতে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা খেলবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। এই ম্যাচের আগে গতকাল যখন সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন স্কালোনি, তখন তাঁর কাছে ফের এসেছে টুর্নামেন্টে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার প্রসঙ্গ। উত্তরে তিনি বলেন, ‘এক অর্থে এসব কথা বোঝায় যে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা চান না আর্জেন্টিনা জিতুক। এটা স্বাভাবিক। যেমন অন্য দলগুলোর ক্ষেত্রেও এমন মানুষ থাকেন, যাঁরা তাদের জিততেও দেখতে চান না। হয়তো আমাদের ক্ষেত্রে এমন মানুষের সংখ্যা একটু বেশি আর আমরা সেটাকে মাথায় রাখি।’

আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে হচ্ছে সমালোচনা। যাঁর মধ্যে আটলান্টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে ৬০ মিনিটে মিসর ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো গোল করার পরও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) মাধ্যমে দেখে তা বাতিল করা হয়েছে। কারণ, সেই গোলের বিল্ডআপের সময় লিসান্দ্রো মার্তিনেসের জার্সি টেনে ধরা হয়েছিল।

বহুল আলোচিত শেষ ষোলোর মিসর ম্যাচের প্রসঙ্গ এলে স্কালোনি উল্লেখ করেছেন লিসান্দ্রোর সেই ঘটনার কথাও। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে নামার আগে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার কোচ বলেন,‘লিসান্দ্রো (মার্তিনেস)-এর পায়ের ওপর প্রতিপক্ষ পা দিয়েছিল—সেটা সামান্য হোক, অনেকটা হোক বা অল্পই হোক—এটি ফাউল। এটাকে অন্য কোনোভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই।’

কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে ৩-২ গোলে জয়ের পর মিসরের বিপক্ষে একাদশে তিন পরিবর্তন নিয়ে নেমেছিলেন স্কালোনি। শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে লাউতারো মার্তিনেস, থিয়াগো আলমাদা ও ফাকুন্দো মেদিনার জায়গায় খেলেছিলেন হুলিয়ান আলভারেস, লেয়ান্দ্রো পারেদেস ও নিকোলাস তালিয়াফিকো। গোলরক্ষক হিসেবে ছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস। রক্ষণে তাঁর সামনে ছিলেন নাউয়েল মোলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও তালিয়াফিকো। মাঝমাঠের দায়িত্বে ছিলেন রদ্রিগো দি পল, পারেদেস, এনসো ফের্নান্দেস ও আলেক্সিস মাক আলিস্তার। আক্রমণে মেসির সঙ্গে খেলেছিলেন আলভারেস।

আগামীকাল সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালেও মিসর ম্যাচের একাদশ নিয়ে খেলানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন স্কালোনি। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি একই দলকে বেশ কয়েকবার মাঠে নামিয়েছি। এবারও সেটা হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তবে কিছু পরিবর্তনও হতে পারে। কিন্তু মূলত সেদিনের দলের সঙ্গে খুব মিল থাকায় এই দলই আমি খেলাব।আমরা পরিবর্তনগুলো করেছি। কারণ, আমাদের মনে হয়েছিল দল আরও ভালো খেলতে পারবে। লেয়ান্দ্রোর মাঠে নামার পর বলের গতি ও দখল—দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য উন্নতি চোখে পড়েছে। একই সঙ্গে আলেক্সিসের পারফরম্যান্সও আরও ভালো হচ্ছে।’

৭ জুলাই শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসর ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। তাদের গোল দুটি করেন ইয়াসির ইব্রাহিম ও মোস্তফা জিকো। সেখান থেকেই আর্জেন্টিনার নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। ৩-২ গোলে জিতে আলবিসেলেস্তেরা ওঠে শেষ আটে। ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি ও এনসো ফের্নান্দেস শেষ ১৩ মিনিটে গোল তিনটি করেন। আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচের জয়ী দল দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড-নরওয়ে ম্যাচের জয়ী দলের। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৩টায় মায়ামিতে শুরু হবে তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালের ইংল্যান্ড-নরওয়ে ম্যাচ। দ্বিতীয় সেমিফাইনাল হবে ১৫ জুলাই।