বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়াকে দ্বিতীয়ার্ধের ২৬তম মিনিটে বদলি করা হয়। তার জায়গায় নামেন শেন লামেন্স। ম্যাচের ৪২তম মিনিটে লামেন্স একটি শট ঠেকালেও বলটি বিপজ্জনক জায়গায় ফিরিয়ে দেন, আর সেই রিবাউন্ড থেকেই স্পেনের দ্বিতীয় গোলটি করেন।
থিবো কর্তোয়া জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের কাছে বেলজিয়ামের বিদায়ের ম্যাচে পেশিতে ব্যথা থাকা সত্ত্বেও তিনি খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তবে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল সম্পূর্ণ কোচ রুডি গার্সিয়ার।
ম্যাচ শেষে কোচ রুডি গার্সিয়া জানান, কর্তোয়া শারীরিকভাবে শতভাগ ফিট না থাকায় তাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। কর্তোয়া বেলজিয়ান টেলিভিশন আরটিবিএফকে বলেন, ‘আমার ব্যথা হচ্ছিল, যার কারণে পা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে বল খেলতে পারছিলাম না। শট ঠেকাতে পারছিলাম, কিন্তু বিশেষ করে লম্বা পাস বা কিক নিতে সমস্যা হচ্ছিল। আমি খেলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কোচ কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি। আমি তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। যদি লম্বা কিকই ঠিকমতো নিতে না পারি, তাহলে সেটি দলের জন্য সমস্যা হতো। সেনে (লামেন্স)-এর জন্য খারাপ লাগছে, তবে এটা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা।’
অন্যদিকে রুডি গার্সিয়া বলেন, ‘আমি কর্তোয়ার সঙ্গে কথা বলবো, তিনি আমাকে কিছু বলেননি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে ম্যাচ শেষ করতে পারেনি। কয়েক মাস পর এই সমস্যাগুলো আরও বাড়তে পারে। সে শতভাগ ফিট ছিল না। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খেলতে হলে প্রায় শতভাগ ফিট থাকা জরুরি। না হলে সমস্যা হতে পারে। তার চোট পাওয়াটা সত্যিই দুঃখজনক।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে সফল হতে হলে শতভাগ মনোযোগী ও ফিট থাকা দরকার। আমি কখনোই শতভাগ প্রস্তুত নয় এমন খেলোয়াড়কে খেলাতে পছন্দ করি না। কর্তোয়া সবদিক থেকেই অসাধারণ ছিল, কিন্তু আমরা তার চোট আরও বাড়াতে চাইনি।’
স্পেনের বিপক্ষে পরাজয়ে ভাগ্যেরও বড় ভূমিকা ছিল বলে মনে করেন গার্সিয়া। ম্যাচ শুরুর আগেই ওয়ার্ম-আপে পেশির সমস্যায় পড়ে অধিনায়ক টিলেমান্স ছিটকে যান।
শেষে গার্সিয়া বলেন, ‘আমরা এই হার থেকে শিক্ষা নেব। স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলেছি। ভাগ্যও আমাদের পক্ষে ছিল না। অধিনায়ক ও গোলরক্ষক দুজনকেই হারিয়েছি, যা পরিকল্পনায় ছিল না। আমরা কিছু ভুল করেছি, আর সেই ভুলের মূল্য দিতে হয়েছে। তবে তরুণ খেলোয়াড়রা এই পরাজয় থেকে অনেক কিছু শিখবে।’
আরআর/আইএন








